ডেস্ক রিপোর্ট
গ্রিসের এভিয়া দ্বীপে টানা ষষ্ঠদিনের মতো তাণ্ডব চালাচ্ছে ভয়ংকর দাবানল। আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচতে পালাচ্ছে সেখানকার হাজার হাজার মানুষ। দাবানল মোকাবিলায় কয়েকশ’ দমকলকর্মীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী নামিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স, মিসর, স্পেন, সুইজারল্যান্ডের মতো প্রতিবেশীরাও।
রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গ্রিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ এভিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ংকর দাবানল। এতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দ্বীপটির উত্তর পাশের হাজার হাজার হেক্টর বনের গাছপালা, ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক ডজন গ্রামের বাসিন্দারা। অন্তত পাঁচটি গ্রামের সব বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দাবানলে ঘরছাড়া হওয়া মিনা নামে এক ৩৮ বছর বয়সী নারী বলেন, ঠিক যেন ভয়ের সিনেমার (হরর মুভি) মতো। কিন্তু এটি সিনেমা নয়, বাস্তব। এই ভয়ের মধ্যেই আমরা এক সপ্তাহ ধরে ছিলাম।
সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ তাপদাহের মধ্যে এভিয়ার মতো গ্রিসের আরও কয়েকটি অংশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এটিকে গত তিন দশকের মধ্যে সেখানকার সবচেয়ে বড় দুর্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশজুড়ে এই দাবানলে ধ্বংস হয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
গত মঙ্গলবার থেকে এ পর্যন্ত গ্রিক কোস্টগার্ড এভিয়া থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে আরও অনেকেই পায়ে হেঁটে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সেন্ট্রাল গ্রিসের গভর্নর ফ্যনিস স্প্যানোসের মতে, সপ্তাহখানেক ধরে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের অবস্থা ‘খুবই কঠিন’। এসকাই টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডগুলো বিশাল, অনেক এলাকা পুড়ে গেছে। আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হোটেল ও অন্যান্য স্থানগুলোতে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী নামিয়েছে গ্রিস। দমকলের প্লেনসহ নানা ধরনের সাহায্য পাঠিয়েছে প্রতিবেশী ফ্রান্স, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও স্পেন। দাবানল নিয়ন্ত্রণে শুধু এভিয়াতেই কাজ করছেন ৫৭০ জনের বেশি দমকলকর্মী।
গ্রিসের উপ-নাগরিকসুরক্ষা মন্ত্রী নিকোস হার্ডালিয়াস বলেছেন, দাবানল মোকাবিলায় জরুরি কর্মীরা ‘অতিমানবিক প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছেন। গত রোববার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলো আরও কঠিন আসছে।
এথেন্সের উপকণ্ঠে পৌঁছে যাওয়া আগুন ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে উত্তপ্ত আবহাওয়ার কারণে সেটি ফের দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, গ্রিসের জাকিনথোস দ্বীপে আগুন নেভাতে গিয়ে রোববার দমকল বাহিনীর একটি প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্লেনটির পাইলট অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।