ডেস্ক রিপোর্ট
নরসিংদীর রায়পুরায় প্রবাসীর স্ত্রীকে টিকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ দেবর ও ননদদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় দগ্ধ নারীকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দেবরসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখর নগর ইউনিয়নের লোচনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অগ্নিদগ্ধ ওই নারী জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে প্রায় সময়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানের ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন করতো। বছরখানেক আগে তার দেবর সন্তানের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। পায়ে কোপ দেয়ার ঘটনায় ওই নারীর বাবা থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামলা তুলে নিতে ওই নারীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি গিয়ে উঠতে বাধ্য হন।
এরই মধ্যে শনিবার টিকা দেয়ার নাম করে তাকে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকালে দেবর, ননদ, ননদের ছেলেসহ আরও একজনের সাথে শ্বশুরবাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোযোগে টিকা দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। অটোতে ওঠার কিছুক্ষণ পর ভুক্তভোগীর চোখমুখ বেঁধে ফেলা হয়। রাতে দেবর নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অটো থেকে নামিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে জানান ভুক্তভোগী।
পরে আবার অটোতে উঠিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরতে থাকে। পরে রায়পুরা-বারৈচা সড়কের পাশে লোচনপুর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে এক পর্যায়ে তার দেবর তরল জাতীয় কিছু শরিরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৩টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর ও ননদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. এ.কে.এম. রেজাউল ইসলাম খান জানায়, পারভিন বেগমের শরীরে পায়ের আগুল থেকে গলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূর গায়ে আগুন দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে রায়পুরা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, দেবরসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।