এ.আর খান মিন্টু, বগুড়া
বগুড়ার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুর বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুকমি প্রদানের অভিযোগ দায়ের করেছেন আরেক সিনিয়র আইনজীবি সদরুল আনাম রন্জু। গেল ২৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় অভিযোগটি দায়ে করা হয়েছে। অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই মন্টুর লোকজন অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছেন। গত ৩১ জুলাই পিন্টু এবং সবুজ নামের দুই ব্যক্তি অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে কাজের ঝিকে ধর্ষণ করার মামলা ঠুকে দেয়ার হুমকি প্রদর্শন করেছেন মোবাইল ফোনে। এসব দাবী করেছেন আইনজীবি সদরুল আনাম রন্জু। অভিযোগ এবং আইনজীবি সদরুল আনাম রন্জু সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও বগুড়ার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু নানা ভাবে আদালত পাড়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই প্রকাশ্যে গালিগালাজ এবং শারীরীক ভাবে নির্যাতন চালায়। সাধারণ মানুষ আর আইনজীবিদের বাইরেও তিনি নানা পেশার মানুষদের সাথে অন্যায় আচরন করে আসছেন। এমনকি তার মক্কেলের জামিন মঞ্জুর না করলে বিচারকদেরকেও তিনি অপমান অপদস্ত করতে ছাড়েন না। কয়েক মাস আগেও তিনি একজন বিচারকের সাথে তিনি আদালত চলাকালিন সময়ে খারাপ আচরণ করেছেন। ওই ঘটনায় পরে তার নামে মামলাও হয়েছে। এছাড়াও তিনি আইটিসিএল গ্রাহকদের ৭৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। রেজাউল করিম মন্টুর এমন অন্যায় কাজগুলো উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেন এ্যাডভোকেট সদরুল আনাম রন্জু। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গেল জুলাইয়ের ২৮ তারিখ সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে ‘ইমতিয়াজ খান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ্যাডভোকেট সদরুল আনাম রন্জুকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। আইডিটি থেকে তার ম্যাসেঞ্জারে অকথ্য ভাষায় গালিদেয়া হয়। সেই সাথে হুমকি প্রদর্শন করে লেখা হয় ‘ঘর থেকে বাইরে গেলেই তাকে খুন করা হবে। তার মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী মেয়ের অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে তার জামাইকে দেয়ার হুমকিও দেয় ওই আইডি থেকে। এছাড়াও তার ছেলে ঢাকার সাভারে থাকেন, তাকেসহ আমার পাঁচ বছরের নাতনিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মন্টুর বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করতে বলা হয়। তিনি ওই রাতেই বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞাকে বিষয়টি অবগত করেন এবং পরের দিন ২৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। এছাড়াও তিনি হুমকি প্রদর্শনের লেখাগুলো স্ক্রীনসর্ট রেকর্ড করে পিপি, বিশেষ পিপিকে প্রদান করেছেন। সদরুল আনাম রন্জু আরো বলেন, থানায় অভিযোগ দাখিল করে ওই দিন কোর্টের গওহর আলী ভবনে অতিরিক্ত পিপি সালাম সাগর, এপিপি রেজাউল হকের চেম্বারে গেলে মন্টুর লোকজন এডভোকেট মোস্তফা কামাল প্রিন্স প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি দেয়। সে বলে এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা বন্ধ না করলে অসুবিধা হবে। এবিষয়ে এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু বলেন, আইনজীবি সদরুল আনাম রন্জু বেশ কিছু দিন ধরে আমার নামে আজেবাজে কথা তার ফেসবুকে ধারাবাহিক ভাবে লিখে আসছেন। আমার একজন শুভাকাঙ্খি তাকে (সদরুল আনাম রন্জুকে) ফেসবুকে এসব বাজে মন্তব্য না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাকে আমি কিংবা আমার পক্ষ থেকে কেউ কোন প্রকার হুমকি প্রদান করেনি। অপর দিকে, বিচারকের সাথে খারাপ ব্যবহারে বিষয়ে এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু বলেন, আমি কোন অন্যায় মেনে নিতে পারিনা। যে কেউ অন্যায় করলে আমি প্রতিবাদ করি। আমার একজন জামিন যোগ্য আসামীর জামিন না মঞ্জুর করলে আমি বিচারক মহোদয়ের কাছে জামিন না মঞ্জুরের কারণ বিনয়ের সাথে জানতে চাই। তখন তিনি আমার উপর রেগে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। ওই সময় বিচারকের সাথে তার বাকবিতান্ডা হয়। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে থানায় যেসব অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা ভিত্তিহীন, অসত্য, বানোয়াট। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা বলেন, আইনজীবি সদরুল আনাম রন্জু ২৯ তারিখে অপর একজন আইনজীবি রেজাউল করিম মন্টুর বিরুদ্ধে একটি তিন পাতার অভিযোগ দিয়েছেন থানায়। অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তভূক্ত করে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।