শিরোনাম :
পলাশবাড়িতে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০তম বর্ষ পালিত শাজাহানপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঝিরা ইউনিয়ন জামায়াতের লিফলেট বিতরণ শিবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে মহাস্থানে নিসচা’র সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ছোনকা বাজার আন্ডারপাসের দুই পাশে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, শোভাবর্ধন গাছ রোপণ শাজাহানপুরে মশা নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন শিবগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায়দের মাঝে ঢেউটিন বিতরণে গাবতলীতে ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে কৃষক কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় জাতীয় কবি নজরুল এর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

মৃত্যুর আগে অসুস্থ্য কোনো বন্দী জেলের বাহিরে যাবে না: সুপার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার,বগুড়া
‘‘রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” কারা অধিদপ্তরের এই স্লোগানকে বন্দীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। কারণ বগুড়া জেলখানার মৃত্যুর আগে কোনো বন্দী বাহিরে উন্নত চিৎিসার সুযোগ পাবে না বলে স্বগর্বে ঘোষনা দিয়েছেন সুপার মনির আহমেদ।
সূত্র মতে, বগুড়া জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে ৪০ শর্য্যার একটি কারা হাসপাতাল রয়েছে। স্থায়ী কোনো চিকিৎসক নেই। সরকারী অন্য হাসপাতালে কর্মরত একজন চিকিৎসক মাঝে মধ্যে কারা হাসপাতাল আসেন। এছাড়া ২জন ফার্মাসিস্ট রয়েছে, তারাই বন্দীদের চিকিৎসা দেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য কারা হাসপাতালে কোনো ব্যবস্থা নেই। নামে মাত্র একটি ইসিজি মেশিন থাকলেও তা দিয়ে কোনো কাজ হয় না। কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বন্দীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে বা উন্নত চিকিৎসার আবেদন জানালে কারা প্রশাসন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে তা উড়িয়ে দেয়।
সম্প্রতি জেল ফেরত বন্দী বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শহরের বাসিন্দা ও সাবেক বিজিবি সদস্য মেরাজুল ইসলাম বলেন, আমি জেল খানায় থাকাকালীন কিডনীসহ নানা রোগে আক্রান্ত হই। অসহ্য যন্ত্রনা শুরু হলে কারা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। টানা ৩ দিন কারা হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও কোনো চিকিৎসক পাইনি। ফার্মাসিস্ট শুধু ব্যথানাশক ইনজেকশন ও ট্যাবলেট দিতে থাকে। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জেল সুপার মনির আহমেদকে যখন অনুরোধ করে বললাম, স্যার আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাহির মেডিকেতলে পাঠান। কথাটি শোনার পরপরই জেল সুপার বললেন, ‘‘মৃত্যুর আগে অসুস্থ্য কোনো বন্দী জেলখানর বাহিরে যাবে না”। কথাটি শোনার পর জেলখানা জুড়ে হইচই পড়ে যায়। তখন লোক দেখানোর জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা পত্র না নিয়েই জেলখানায় আবারো ফেরত আনা হয়। এরপর মুক্তি লাভের পূর্ব মুর্হত পর্যন্ত অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে জেলখানায় থাকতে হয়েছে। বারবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানিয়েও কোনো ফল পাইনি। এরকম রোগী শুধু মেরাজুল নয় অসংখ্য রোগী রয়েছে। যাদেরকে চিকিৎসা সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক কয়েদী ও হাজতি রোগ নির্ণয় এবং সুচিকিৎসার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বাহির মেডিকেলে পাঠানোর সুপারিশ করেছে। কিন্তু জেল সুপার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কোনো রোগী বাহির মেডিকেলে পাঠানো হবে না। এই সিদ্ধান্তে জেল সুপার এখনো অনড়। কারন গত ২৮ জানুয়ারি বগুড়ার সান্তাহারের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের পুত্র ও হাজতি রাশেদুল ইষলাম রাজা গুরুতর অসুস্থ্য হয়। এরপর তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কোনো প্রকার রোগ নির্ণয় না করেই ৩১ জানুয়ারি কারা হাসপাতাল থেকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। যা সাধারণ বন্দীদের দারুনভাবে ব্যথিত করেছে।
একজন জেল ফেরত বন্দী বলেন, চিকিৎসা সেবা পাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। সে অপরাধী হোক বা নিরাপরাধই হোক। কিন্তু বগুড়া জেল সুপার বন্দীদের মৌলিক অধিকার হরন করে আসছে। যা সত্যিই দুঃখজনক। এদিকে বাহির মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েদী বিপ্লবসহ অনেককেই দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুপারিশ করেছে কিন্তু জেল সুপার বাহিরে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জেল সুপারের এহেন দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ কারা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই। বন্দীদের ওপর জেল সুপারের ক্ষুদ্ধ আচরনের কারন খুঁজছেন অনেকেই। এবিষয়ে জেল সুপার মনির আহমেদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। (চলবে…….)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023