স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দীদের প্রাপ্য খাদ্যদ্রব্য লুটপাট করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভড়ছেন জেল সুপার মনির আহমেদ। সরকারী বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের সিংহভাগই লুটপাট করা হচ্ছে। এতে করে সরকারের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে একজন কয়েদী নাস্তার আটা পাবে ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম, হাজতি পাবে ৮৭ দশমিক ৪৮ গ্রাম, দুপুরে একজন কয়েদী চাল পাবে ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম, হাজতি পাবে ২৪৭ দশমিক ৮৬ গ্রাম, বিকেলের চালের বরাদ্দও একই। প্রতিদিন একজন কয়েদীও হাজতি তরকারী পাবে ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম, ডাল ১৪৫ দশমিক ৮০ গ্রাম, লবন ২৯ দশমিক ১৬ গ্রাম, পেঁয়াজ ৪ দশমিক ১০ গ্রাম, শুকনা মরিচ ১ দশমিক ৮২ গ্রাম, হলুদ ০ দশমিক ৯১ গ্রাম, ধনিয়া ০ দশমিক ৪৫ গ্রাম, ভোজ্য তেল ১৮ দশমিক ২২ গ্রাম, মাছ ৩৬ দশমিক ৪৫ গ্রাম ও গরুর মাংস ৩৮ দশমিক ৭৮ গ্রাম পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বন্দীরা প্রাপ্য খাদ্যদ্রব্য থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। যেনো দেখার কেউ নেই।
একাধিক জেল ফেরত বন্দীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেল সুপার মনির আহমেদের ইচ্ছে মতো রান্না করতে হয় চৌকায় দায়িত্বরত কারারক্ষী ও বন্দীদের। কেউ প্রতিবাদ করলে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। সম্প্রতি মাছের মাথা দিয়ে সবজি রান্না, ব্রয়লার মুরগী দিয়ে ডালের মুড়িঘন্টা, দুপুরের সবজির পরিবর্তে আলু বর্তা ও বেগুন ভর্তা করে খাওয়ানো হয়। আর এসব তরকারি বিতরনের সময় জেল সুপার নিজে উপস্থিত থাকেন। যেনো কোনো বন্দী এসবের প্রতিবাদ করতে না পারে।
বগুড়া কারাগারে প্রতিনিয়ত ১৮শ থেকে ২ হাজার বন্দী থাকে। বন্দীর হিসাব অনুযায়ী খাদ্য গুদাম থেকে অর্ধেকেরও কম খাদ্য দ্রব্য দিয়ে বন্দীদের খাওয়ানো হয়। এছাড়াও ক্যান্টিন পরিচালনা করে মাসে আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকার মতো আয় করা হয়। বন্দীদের টাকায় পরিচালিত ক্যান্টিনে সকল পন্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়ে থাকে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কোনো বন্দীর মুখ খোলার সুযোগ নেই। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব, ডিআইজি প্রিজনও বগুড়া জেলা প্রশাসক কারাগার পরিদর্শনে আসার আগেই বন্দীদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। আর পরিদর্শক এলে সকল ওয়ার্ডে বন্দীদের আটক করে রাখা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিদর্শক কারাগারের ভিতরে অবস্থান করে, ততক্ষণ পর্যন্ত কারারক্ষীদের নিয়ে জেল সুপার পরিদর্শককে ঘিরে রাখেন। সর্বশেষ গত মাসে বগুড়া জেলা প্রশাক জিয়াউল হক কারাগার পরিদর্শন আসেন। জেলা প্রশাসক পরিদর্শনকালে সকল বন্দীকে আগে থেকেই হুমকি দিয়ে ভেতরে আটকে রাখা হয়।
কাগারের একটি সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক যদি বন্দীদের আলাদাভাবে ডেকে কথা বলেন, তাহলে জেল সুপারের অনিয়ম-দুর্নীতির পুরো চিত্র বেরিয়ে আসবে। অথচ জেলা প্রশাসককে এমনভাবে কারা প্রশাসন ঘিরে রাখে, যেনো কারাগার অভ্যন্তরে জেলা প্রশাসকের নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ফলে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনে কোনো বন্দী সুফল পায় না। এতে করে সরকারের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেল ফেরত কয়েকজন বন্দী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেল সুপার মনির আহমেদ কোনো বন্দীকে মানুষই মনে করেন না। তিনি পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে জেলখানা পরিচালনা করছেন। জেল সুপারের ইচ্ছেই জেল পরিচালনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলকোর্ড লংঘন করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। (চলবে)