শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

বগুড়া জেলা কারাগারের হালচাল-১
বঙ্গবন্ধুর বিলবোর্ড অপসারন খালেদা জিয়ার ছবি ড্রইংরুমে
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া জেলা কারাগারের বন্দীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেল সুপার মনির আহমেদের এক নায়কতন্ত্র শাসনে অতিষ্ট হয়ে উঠছে কারাগারে কর্মরতরাও। মহানন্দা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর বিলবোর্ড অপসারন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি উদ্ধার করে সেজে রেখেছেন সুপারের ড্রইংরুমে। এটি এখন ‘‘টক অব দি জেল খানায়” পরিণত হয়েছে। মনির আহমেদ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সুপার হিসেবে বগুড়া জেলা কারাগারে যোগদান করেন। যোগদানের পর পুরো কারাগার পরিদর্শন শুরু করেন। ধারাবাহিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে কাপড় গুদাম পরিদর্শন করতে গিয়ে ২০০৭ সালের ১/১১ এর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খুলে রাখা ধুলা-ময়লায় নিমজ্জিত একটি ছবি দেখতে পান। ছবিটি দেখার পর সুপার নিজে খালেদা জিয়ার ছবি পরিস্কার করে নিয়ে যান। সেই ছবিটি বর্তমানে সুপারের ড্রইংরুমে রেখেছেন বলে কারাগারে কর্মরত একজন কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে কারাগারের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধু কর্ণারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাবেক জেল সুপার সাঈদ আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ২টি বড় বিলবোর্ড স্থাপন করেন। কিন্তু বর্তমান সুপার বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ২টি বিলবোর্ড অপসারন করেন। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কারাগারে কর্মরত কারারক্ষীও কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পাশাপাশি আওয়ামীলীগ সমর্থক বন্দীরাও চরম মর্মাহত। কেস টেবিলে বেত্রাঘাতের ভয়ে ইচ্ছে থাকলেও কোনো বন্দী প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। আর চাকরি হারানো অথবা হয়রানীর ভয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দেখেও না দেখার ভান করে চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের কর্মরত একজন বলেন, আমরা ইচ্ছে করলেও প্রতিবাদ করতে পারি না। কারণ জেল সুপার এসিআর লেখেন। খারাপ কিছু লিখলে চাকরী জীবনে নানা সমস্যায় পড়তে হবে। তাই আমাদের দেখার সুযোগ থাকলেও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই।
জামিনে আসা জেলফেরত কয়েকজন বন্দী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকবার জেলে এসেছি, কিন্তু এরকম জেল সুপার বগুড়া কারাগারে কখনো আসেনি। জেল সুপার যখন যা ইচ্ছে, তাই করছেন। জেল খানায় মধ্যে বন্দীরা নিজেদেরকে অনিরাপদ মনে করে। কারণ কোনো বন্দী অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে কেস টেবিলে হাজির করা হয়। এরপর কারারক্ষীদের দিয়ে শারিরীক নির্যাতন চালানো হয়। তারপর বন্দীকে পাঠানো হয় ‘‘সেল” নামক আতংকিত কক্ষে। এজন্য কোনো বন্দী সহজে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
এ প্রসঙ্গে জেল সুপার মনির আহমেদের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। (চলবে……)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023