যমুনার ভাঙনে হুমকির মুখে বাড়িঘর ও স্কুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার সকালে বিনাইন গ্রামে দেখা যায়, ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত। কেউ ঘরের খুঁটি খুলছেন, কেউবা অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন ঘরের চাল। চোখের সামনে রাক্ষুসী যমুনার হিংস্র থাবায় একে একে গ্রাস করছে বসতভিটা। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

তবে ভাঙন রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বিনাইন এলাকায় ভাঙন রোধে দ্রুতই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া দক্ষিণ এলাকা রক্ষায় ৪৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

জানা যায়, যমুনা নদীতে পানিবৃদ্ধির পর চৌহালীর খাষপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউপির ভূতের মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গত তিন সপ্তাহে খাষপুখুরিয়া, রেহাইপুখুরিয়া পশ্চিমপাড়া, চরণাকালিয়া, চরবিনাইন, চরছলিমাবাদ ও ভূতের মোড় এলাকার প্রায় অর্ধশত বসতভিটাসহ কয়েকশ একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

 

এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিনানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবিনাইন কমিউনিটি ক্লিনিক, চরবিনাইন বাজার, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও চরণাকালিয়া তাঁত কারখানাসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি।

 

চরণাকালিয়া এলাকায় কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ এলাকা চরবিনাইন এলাকায় এ বছর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকির মুখে বিস্তীর্ণ এলাকা।

 

এদিকে পাউবো ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

এ বিষয়ে বিনাইন পূর্বপাড়া বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী ও সমাজসেবক দ্বীন মোহাম্মদ জানান, ভাঙন চৌহালীর মানুষের নিত্যসঙ্গী। এ ছাড়া বিগত বছরে পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় কাজে উপজেলা সদরে যাতায়াতে বিকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া ও দ্বিগুণ সময় নষ্ট করে যাতায়াত করছে।

 

এখনই জরুরিভিত্তিকে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না করা হলে কয়েক হাজার ঘরবাড়িসহ বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙনের কবলে পড়বে।

 

এ বিষয়ে চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, দ্রুত স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজ না করলে অস্তিত্ব বিলীন হবে চৌহালীর দক্ষিণাঞ্চলের। এ চিন্তা ও হতাশায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

 

তবে চৌহালী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি তাজউদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকার জানান, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে পাউবোসহ ঊর্ধ্বতন মহলকে বিস্তারিত অবগত করা হয়েছে। জরুরি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজও চলমান রয়েছে।

 

এ ছাড়া আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023