স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া সদরের পলাশবাড়ী স্কুল পাড়ায় পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ের অভিনয় করে কমলমতি এক কিশোরীকে এক সপ্তাহ ধরে ধর্ষণ করেছে এক প্রতারক। অভিযোগ পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকের নাম মোঃ আব্দুল আলিম (৩২)। সে গাজিপুর সদর উপজেলার কামারজুরী এলাকার মৃৃত ফজলুল হক এবং মোছাঃ মেঘজান বিবির ছেলে। প্রতারণার শিকার ওই কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, প্রতারক আব্দুল আলিম তার প্রকৃত নাম, পিতা মাতার নাম ও বসবাসের ঠিকানা গেপন করে ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে নিজেকে অবিবাহিত ও রংপুরের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে কোমলমতি ওই কিশোরীর সাথে বিয়ের অভিনয় করে সাতদিন ধরে ধর্ষণ করেছে। প্রতারক আব্দুল আলিম বৃহস্পতিবার সকালে ওই মেয়েকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ খবর নিলে তার প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। ঘটনাটি বগুড়া সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এস আই বেদার উদ্দীন, এস আই রেজাউল সঙ্গীয় ফোর্স সহকারে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় আনেন। মহাস্থান মাহী সওয়ার ডিগ্রি কলেজ এর একাদশ শ্রেণির ওই কিশোরী বলেন, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনের রং নম্বর থেকে ওই প্রতারকের সাথে তার পরিচয় হয়। প্রতারক আলিম ওই মেয়ের নিকট রাসেল মিয়া নামে পরিচিত হয়। দু’জনে মোবাইলে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পিতার নাম বলে মৃত শফিকুল ইসলাম এবং মাতা মৃত জান্নাত আরা, ঠিকানা ঢাকার মোহাম্মদপুর, মোল্লাপাড়া বলে জানায়। এ ছাড়াও সে জানায় ঢাকায় তাদের চারতলা বাড়ি রয়েছে। তারা ভাই, দুই বোন। তার বড় ভাই কোটিপতি ব্যবসায়ী। তাকে বিয়ে করলে সে সুখী হবে। প্রতারকের এমন প্রলোভনে পা দেয় ষষ্ঠদশী ওই কিশোরী। ওই কিশোরী আরও জানায়, সে পুলিশের লোক তা বিশ্বাস করানোর জন্য একদিন মহাস্থান কলেজ এলাকায় পুলিশের পোশাক পরে এসেছিল এবং আগ্নেয়াস্ত্রও দেখাইয়াছিল। এরপর থেকে ওই কিশোরী তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। এক পর্যায়ে গত শুক্রবার ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়েই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েই ওই কিশোরীকে বিয়ের পিড়িতে বসায়। ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করায় ইসলামী শরিয়তের বিধানমতে যদিও সেটিকে বিবাহ বলা যায় না। বিবাহ বহির্ভূতভাবে প্রতারক আলিম ওই কিশোরীর সাথে সাতদিন স্বামী স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা করে, যা সম্পূর্ণ ধর্ষণের শামিল। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মোঃ সেলিম রেজা জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) তৎসহ দন্ডবিধির ১৭০/৪২০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এই প্রতারক কিশোরী মেয়েটিকে বাড়ি থেকে কৌশলে নিয়ে গেলে ওর কপালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা নেমে আসতো। গতকাল শুক্রবার ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী জেলা বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারার জবানবন্দি দিয়েছে। সাব ইন্সপেক্টর বেদার উদ্দীন জানান, ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষাও করা হয়েছে। আসামীকে মামলায় গ্রেফতার নিউজটি পড়ে পাঠনোর মত হলে নিউজ করার অনুরোধ রইলো বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।