স্টাফ রিপোর্টার,বগুড়া
বগুড়ার বহুল আলোচিত শ্বাশুড়ি দেলওয়ারা বেগমের দায়েরকৃত মামলা থেকে গর্ভজাত কোনো মেয়েই বাদ যায়নি। সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর জামাই-মেয়ের বিরুদ্ধে সদর থানায় শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে শহরজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। দেলওয়ারা বেগম বগুড়ার ব্যবসায়ী প্রয়াত সেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দেলওয়ারা বেগম সব ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বগুড়ার চারমাথা ও শাকপালা এলাকায় অবস্থিত সরিফ সিএনজি ফিলিং স্টেশন -১ ও ২ এর স্বত্তাধিকারী। সঙ্গে সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরির অন্যতম মালিকও তিনি। তবে এসব ষড়ষন্ত্রের মূল হোতা দেলওয়ারা বেগমের কণিষ্ঠ জামাই ও মেয়ে শান্তনা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী জামাই মোফাজ্জল হোসেন রঞ্জু ওরফে ধলা মিয়া।
নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা দেলওয়ারা বেগমের বড় মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানার দ্বিতীয় স্বামী। তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক মুক্তজমিন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বগুড়া শহরের নওয়াববাড়ী সড়কের দেলওয়ারা-সেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও জেলা বিড়িশিল্প মালিক সমিতির সভাপতি এবং জেলা দোকানমালিক ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব পদে রয়েছেন। বগুড়া সদর থানায় গত ১অক্টোবর রাতে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন রানাসহ পাঁচজনের নামে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। এতে আনোয়ার হোসেন রানা ছাড়াও মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানম (রানার স্ত্রী), বাদীর মালিকানাধীন সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম, সরিফ সিএনজির ব্যবস্থাপক হাফিজার রহমান ও ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা রয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে দেলওয়ারা বেগমের মার্কেট অফিসে প্রবেশ করে ভাংচুর,নগদ ৭ লাখ টাকা চুরি ও অফিসে রক্ষিত কাগজপত্রাদি জোরপুর্বক নিয়ে যায়। পরের দিন রাত ৯ টার মধ্যে বিশ লাখ টাকা না দিলে জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ও মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানমকে খুন করাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করার হুমকি দিয়ে যায় মর্মে অভিযোগ এনে দেলওয়ারা বেগম বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় শান্তনা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী জামাই মোফাজ্জল হোসেন রঞ্জু ওরফে ধলা মিয়া, ফেরদৌস আলম ফটু,কন্যা আমেনা বেগম,বিলকিছ খাতুন ও শান্তনা বেগমকে আসামি করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর শাজাহানপুর থানায় ৪ মেয়ে ও ২ জামাইকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বগুড়া সদর থানা পুলিশ আমেনা বেগম,বিলকিছ খাতুন ও শান্তনা বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। এদিকে বগুড়ার নওয়াব বাড়ী রোডস্থ দেলওয়ারা সেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমতির সভাপতি, জেলা বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা দোকান মালিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন রানা এবং দেলওয়ারা সেখ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের কর্ণধার আকিলা সরিফা সুলতানা খানমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে গত শনিবার বেলা ১১ টায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একাধিক মামলার আসামি মোফাজ্জল হোসেন রঞ্জু ওরফে ধলা মিয়া,ফেরদৌস আলম ফটু ও আবুল হোসেন খোকন আনোয়ার হোসেন রানা দম্পত্তিকে হত্যাসহ ক্ষতি সাধনে দীর্ঘ দিন যাবত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের এজেন্টরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার নামে মিথ্যা মামলা দিতে উস্কানী অব্যাহত রেখেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এসব অপতৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানান। নতুবা বগুড়ার ব্যবসায়ী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। এছাড়া দেলওয়ারা বেগম ও তাদের জামাই এবং মেয়েদের ব্যাংক হিসাব তল্লাশিসহ ১০০ কোটি টাকার উৎস তদন্ত স্বাপেক্ষে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়।