নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কয়েক দিন টানা বৃষ্টিতে বেশির ভাগ মরিচগাছ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ফলনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাই বেশি দাম হলেও ব্যাপক লোকসান দিতে হচ্ছে চাষিদের। পাইকারি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে উপজেলার মরিচ চাষিদের খুশি হওয়ার কথা হলেও তাঁদের মুখে হাসি নেই।
মরিচ চাষিরা জানান, কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় বেশির ভাগ মরিচের খেতে পানি জমে যায়। সেই মরিচের জমিতে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দেয়া হয়। তারপরেও বৃষ্টির পানি ও আশপাশের জমির পানি চুয়ে আসছে। এতে অনেক খেতের মরিচগাছ মরে যাচ্ছে। কিছু জমির মরিচগাছ বেঁচে থাকলেও সেগুলোতে মরিচ নেই বললেই চলে। আবার কিছু খেতের গাছ বেঁচে গেলেও সেগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর ফলে এ উপজেলায় কাঁচা মরিচের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের গুলিয়া গ্রামের মরিচ চাষি শামছুর রহমান তাঁর মরিচের খেত দেখিয়ে বলেন, ‘দুই বিঘ্যা জমিতে মরিচের আবাদ করছিল্যাম। বৃষ্টিতে আমার গাছ মইর্যা য্যাচ্ছে। এবার দুই হাজার টেকার মরিচও বেচব্যার পারি নাই।’
একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর হাটে মরিচের দাম বেশি। এতে আমরাও খুশি। কিন্তু বিষ্টিতে মরিচগাছের সব্বনাশ হয়া গ্যাছে।’ এখন এক কেজি মরিচই ব্যাচবার পারি নাই। জমিতে গাছ থাকলিউ তাতে মরিচ নাই।’
উপজেলার বাদলাশন গ্রামের মরিচ চাষী দুলাল হোসেন জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলেন। এরমধ্যে বৃষ্টিতে ৩ বিঘা জমির মরিচ গাছ নষ্ট হয়েছে। প্রতি বিঘায় তাঁর মরিচ গাছ লাগানো থেকে শুরু করে তোলা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারে দাম বেশি হলেও জমিতে মরিচ গাছ নষ্ট হওয়ায় হাসি নেই তার মতো অনেক মরিচ চাষির।
এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আদনান বাবু বলেন, ‘এবার উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। বৃষ্টিতে মরিচের খেত নিমজ্জিত হয়েছিল। তবে সঙ্গে সঙ্গে মরিচ চাষিরা শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দেয়ায় মরিচগাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। ইতিমধ্যেই অনেক মরিচগাছে ফুল আসতে শুরু করেছে।’