শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

বগুড়ার স্বনামধন্য দুই কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই প্রভাষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবদুল মোত্তালিব এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

 

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবদুল মোত্তালিবের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ করেন কলেজের সাবেক এক ছাত্রী। শিক্ষক মোত্তালিব পোস্ট তুলে নিতে ফোনে হুমকি দেনও বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফেসবুকে শিক্ষকের অশালীন মন্তেব্যের বিষয়টি প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

নির্যাতনের শিকার আরেক ছাত্রীর অভিযোগ, গত ২০ জানুয়ারি প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করেন। তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সাবেক জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি। অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে তার পরিবার সমঝোতা করতে বাধ্য হন।

 

এ প্রভাষকের বিরুদ্ধে আগেও এক ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের সম্মানের অজুহাতে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবদুল মোত্তালিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনও কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তার ফেসবুক আইডি বার বার হ্যাকড হয়।

 

বাংলা বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

 

শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানান, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও প্রশ্রয়ে এমন অনৈতিক ঘটনা ঘটে চলেছে। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা বলছেন, সমাজ ও পরিবারের বাধার মুখে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিচারের পরিবর্তে সমঝোতা হওয়ায় এমন অপরাধ বাড়ছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকা আক্তার বলেন, এসব ঘটনা অধ্যক্ষসহ অনেকেই জানেন। তাদের অবহেলায় দিন দিন এমন অপরাধ বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোহা. মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এসব ঘটনায় তার কোনও মদদ বা প্রশ্রয় নেই। অনেক কষ্টে প্রতিষ্ঠানটিকে ভালো অবস্থানে এনেছেন। প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে সাবেক এক ছাত্রী লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার সমঝোতা করেন।

 

তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের দুই প্রভাষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা শুনেছেন। শিগগিরই গভর্নিং বডি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করবে। তদন্তে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বিয়াম ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবদুর রফিক জানান, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন বিচ্যুতি কখনও সহ্য করা হবে না। তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023