শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

এখনই সময় সব অনিয়ম রুখে দেবার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

শাওন মাহমুদ, বগুড়া

গেছিলাম কাপড় কিনতে… পছন্দ করে দাম দেওয়ার সময় দেখি দামের সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ করেছে।

সাথে সাথে ধরলাম, এই ভ্যাট কিসের?

– এটা সরকারকে দিতে হয়।

– ঠিক আছে। আপনাদের ভ্যাট নাম্বার কত?

একটা নাম্বার দেখাল লোকটা।

এবার আমি বললাম, মুসক ১১ ফর্ম অর্থাৎ ভ্যাট চালান দেন।

সেলসম্যান অবাক।

আবার বললাম, কি হল? আমি সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছি, আর সরকার আমাকে এর রিসিপ্ট দিবে না? যান, নীল রঙয়ের ভ্যাট চালানটি নিয়ে আসুন।

এরপর সে তাদের বসকে ডাকল। তিনি এসে,

– কি সমস্যা ভাই?

– সমস্যা তো আপনার। মুসক বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী আমি আপনার মাধ্যমে সরকারকে ভ্যাট দিলাম, আর আপনি আমাকে চালানের কাগজ তো দিলেন না।

– এটা তো নাই আমাদের কাছে?

– নাই মানে? তাহলে কোন আইনে আপনি আমার কাছে ভ্যাট আদায় করলেন? আপনার বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

লোকটি চুপ। পরে ১৫% ভ্যাট ছাড়াই কাপড় দিল।

শুধু এটি নয় হাজার হাজার শপ, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ইত্যাদি এভাবে ভ্যাটের নামে অর্থ আত্মসাৎ করছে। আর সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ঢুকাচ্ছে।

নিয়ম হল, যখনি কেউ আপনার বিলে ভ্যাট হিসেবে টাকা কেটে নিবে, সাথে সাথে সে আপনাকে একটি চালানের সরকারি কাগজ (নীল রঙয়ের) দিয়ে দিব। আপনি যে সরকারকে ভ্যাট দিলেন, আর সরকার যে বুঝিয়ে পেল সেটার প্রমাণ এটি। ভ্যাট নিবন্ধিত প্রত্যেক দোকান বা রেস্টুরেন্টে এই সরকারি কাগজ থাকে।

অনেক সময় শুধু প্রিন্ট করা বিল আমাদের দেয় যেখানে ভ্যাটের টাকার পরিমাণও উল্লেখ থাকে… কিন্তু এটি ভ্যাটের সরকারি কাগজ নয়। নীল রঙয়ের চালান কাগজটিই হল ভ্যাটের কাগজ।

কেউ যদি প্রিন্টেড বিলে ভ্যাট নিয়ে আলাদাভাবে এই চালান কাগজ না দেয়, তাহলে বুঝবেন সেই টাকা সেই প্রতিষ্ঠান নিজের পকেটে ঢুকালো, অথচ আপনি সরকারকে ঠিকই ভ্যাট দিলেন। খাবার রেস্টুরেন্টগুলোতে এই দুই নম্বরি কাজগুলো বেশি করে।

আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নাম্বারই নেই, তারাও অযথা ভ্যাটের নামে টাকা আদায় করে।

কেউ চালান কাগজ দিতে অস্বীকার করলে, তাকে আইনের কথা উল্লেখ করে আর ভ্যাট দিবেন না। বেশি তেড়িবেড়ি করলে এনবিআরে সরাসরি ফোন (16555) দিয়ে অভিযোগ করবেন।

আমরা কষ্টের ইনকামের টাকা থেকে প্রতিনিয়ত সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছি কিন্তু সে টাকা সরকার পর্যন্ত যাচ্ছেই না, কারণ বেশিরভাগ লোকই এটা জানে না…আর এই সুযোগে এসব দুষ্ট লোকগুলো সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিচ্ছে চোখের সামনে।

এখন মূসক ১১ এর কোন অস্তিত্ব নাই। ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন কার্যকর ছিলো। ২০১৯ সালের জুলাই মাস হতে, ২০১২ সালের ভ্যাট আইন কার্যকর হয়। বর্তমানে এই চালান হলো ৬.৩।

এছাড়াও ইসিআর মেশিনে, বিলের যেই প্রিন্ট দেয়া হয়, সেখানে BIN number অথবা VAT Registration number দেয়া থাকে। বর্তমানে ১৩ সংখ্যার vat number নিবন্ধন থাকে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এখনো ১৩ সংখ্যার নাম্বার নেয়নি, তারা পূর্ববর্তী ৯ সংখ্যা অথবা ১১ সংখ্যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

নীল রঙয়ের চালান কাগজটির একটা নমুনা ছবি দিলাম…

[[শেয়ার করুন, নিজে তো জানলেন, বন্ধুদেরও জানিয়ে দিন।। ]] (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023