নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়া,পয়েন্টে ১২ ঘণ্টার ব্যাবধানে আত্রাই নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমলেও বৃদ্ধি পেয়েছে জলাবদ্ধতা। একটি বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে একটি ইউনিয়নের সকল গ্রাম। জেলার সিংড়া, নলডাঙ্গা, বাগাতিপাড়া, লালপুর আর গুরুদাসপুর উপজেলায় পানিবন্দি হয়েছে ৮ হাজার ৭শ ২০ পরিবার। এদের মধ্যে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৬টায় সিংড়া পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপর দিকে নলডাঙ্গা উপজেলায় বারনই নদীর পানি কোনও পরিবর্তন না হয়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ইতোমধ্যেই শুকাশ বাদে ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রায় সকল ওয়ার্ডেই পানি প্রবেশ করেছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। রবিবার দিনব্যাপী আত্রাই নদীর পানি কমলেও বেড়েছে জলাবদ্ধতা। পানির প্রবল স্রোতে উপজেলার কতুয়াবাড়ী-বলিয়াবাড়ি রাস্তার মহেশচন্দ্রপুর কলকলি নামক স্থানে দুপুরে বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে কলম-চানপুর বিলে পানি প্রবেশ করছে। প্লাবিত হয়েছে কলম, কুমারপাড়া, বলিয়াবাড়ি, জগতপুর, নজরপুর, কলকলিপাড়াসহ ১০টি গ্রাম।
তিনি বলেন, বন্যার্ত এলাকার প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি। এরমধ্যে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে ৫শ ৫৪ পরিবারের ১ হাজার ৮শ ৫৭ জন মানুষ।
কলম ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু জানান, তিনি বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শন এবং খোঁজ খবর নিয়েছেন ।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বারনইয়ে অবনতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। ইতোমধ্যেই ৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ২শ পরিবার পানিবন্দি। এর মধ্যে ১৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫২টি পরিবার এসেছে। উপজেলার ব্রক্ষপুর বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বাণীন দ্যূতি জানান, জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার দূরদূরিয়া ও বিলমারিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল জানান, সদর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দেওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে ইতোমধ্যেই সদর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় কাফুরিয়া, তেবাড়িয়া ও বাগাতিপাড়া ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখনও জামনগর এলাকায় ২০টি পরিবার পানিবন্দি।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, নদীর পানি বিলে প্রবেশ করায় খুবজিপুর ও বিয়াঘাট ইউনিয়নে ৫শ মানুষ এখনও পানিবন্দি।