শিরোনাম :
১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

করোনা সংক্রমণে নারায়ণগঞ্জকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় চট্টগ্রাম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

দেশে করোনা সংক্রমণে ‘হটস্পট’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জকে পেছনো ফেললো চট্টগ্রাম। শনিবার একদিনে চট্টগ্রামে ২৭৯ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এতে চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮৬৭ জনে। আর শনিবার পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মোট করোনা আক্রান্ত ছিল ২৫৩২ জন।

 

শনিবার (৩০ মে) চট্টগ্রামে ১২১৯টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ২৭৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

 

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের প্রায় একমাস পরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামে। কিন্তু সংক্রমণ শুরুর প্রথম মাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় মাসে চট্টগ্রামে করোনার বিস্ফোরণ ঘটে।

 

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা এখন চট্টগ্রাম। অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় উন্মুক্ত থাকার কারণে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটছে।

 

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ নগরে ফিরতে শুরু করায় এ পরিস্থিতির এখন আরও মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।

 

গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তি তার ওমরাফেরত মেয়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হন বলে ধারণা করা হয়। পরে ৫ এপ্রিল দ্বিতীয় করোনা রোগী শনাক্ত হন ওই ব্যক্তির ২৫ বছর বয়সী ছেলে। এর পরে এক-দুই করে নগরে করোনার পরিস্থিতি অবনতি হতে শুরু করে। তবে গত ২৬ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানাগুলো চালুর সঙ্গে সঙ্গে নগরের অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। এর পরে ধারণার চেয়ে দ্রুত গতিতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়।

 

শনিবার মধ্যরাতে প্রকাশিত রিপোর্টে জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে তিনদিনের (২৪-২৬ মে) জমে থাকা ৮১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ঢাকার আইইডিসিআর। এতে ১১৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ল্যাব বন্ধ থাকায় গত ৩ দিনের ৮১৬টি নমুনা পরীক্ষা করেছে ঢাকার আইইডিসিআর। এর মধ্যে ১১৬ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে নগরের ৬৭ জন ও উপজেলার ৪৩ জন। ৬ জনের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ২৬০টি নমুনা পরীক্ষায় ১২০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে নগরীর ১১১ জন ও উপজেলার ৯ জন।

 

সিভাসুর ল্যাবে পরীক্ষা হয় ১৩৮ জনের নমুনা। এতে ৪২ জনের পজিটিভ ধরা পড়ে। এর মধ্যে মহানগরে ২ জন ও ৩৮ জন উপজেলার।

 

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ (কমেক) ল্যাবে চট্টগ্রামের ৫টি নমুনা পরীক্ষায় একজনের করোনা পজিটিভ এসেছে। তিনি উপজেলার বাসিন্দা।

 

মোট আক্রান্ত ২৭৯ জনের মধ্যে মহানগরে ১৮০, বিভিন্ন উপজেলায় ৯১ জন। এর মধ্যে আট জন ঠিকানাবিহীন বলে জানায় জেলা সিভিল সার্জন।

 

উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ হাটহাজারীতে ৩৪ জন। এর পরে আছে সীতাকুণ্ডে ১৪ জন, চন্দনাইশ ১৩ জন, পটিয়া ৬ জন, রাউজান ৫ জন, বোয়ালখালী ৫ জন, বাঁশখালী ৫ জন, লোহাগাড়া ৩ জন, ফটিকছড়ি ২ জন এবং সাতকানিয়া, আনোয়ারা, রাঙ্গুনিয়া ও মিরসরাইয়ে ১ জন করে।

 

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৬৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৪ জন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ২১৭ জন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023