ডেস্ক রিপোর্ট
করোনা ভাইরাস ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চীন মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অভিযোগ বারবার প্রত্যাখান করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, চীন চাইলে শুরুতে এই মহামারি ঠেকাতে পারতো। তবে এবার চীন সরকারের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. ঝং নানশান জানালেন, উহান কর্তৃপক্ষ করোনা নিয়ে শুরুতে তথ্য লুকিয়েছিল। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এমনটি বলেন।
এ বছর জানুয়ারির ২০ তারিখে ডা. ঝং নানশানই চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভিকে জানায় যে, করোনা এক জনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে সংক্রমিত হয়। তবে এর আগে উহান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে করোনা একজনের থেকে আরেকজনের শরীরে সংক্রমণের কোন প্রমাণ তারা পায়নি। এছাড়াও তারা বলেছিল যে করোনা প্রতিরোধযোগ্য এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডা. ঝং নানশানের নেতৃত্বে চীনে ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের একটি দল জানুয়ারির ১৮ তারিখে উহানে করোনা ভাইরাস নিয়ে তদন্ত করতে যায় । সেখানে পৌঁছানোর পর ডাক্তার ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই ঝংকে সতর্ক করে ফোনে জানান যে, উহানে সরকারি প্রতিবেদনে যা বলা হচ্ছে তার চেয়েও পরিস্থিতি অনেক খারাপ । ঝং বলেছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, তারা ওই সময় সত্যি কথা বলতে চাইছিল না। একেবারে শুরুতে তারা চুপ ছিল এবং আমি বলেছিলাম, সম্ভবত সংক্রমণের সংখ্যা অনেক।
ঝং জানায়, উহানে মাত্র ১০ দিনে মাত্র ৪১ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তার কাছে মনে হয়েছিল যে তথ্য লুকানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এই ফলাফল বিশ্বাস হচ্ছিল না। আর তাই আমি জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকি এবং তাদেরকে জানিয়ে দেই যে আমাদেরকে প্রকৃত সখ্যা বলতে হবে। এর দুই দিন পর ঝং বেইজিংয়ে এসে জানায় যে উহানে ১০ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৮ জন যার মধ্যে ১৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। মারা গেছেন তিন জন।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ওইদিনই অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংসহ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে উহান লকডাউনের প্রস্তাব দেন ঝং। এরপর ২৩ জানুয়ারি উহানে লকডাউন ঘোষণা করে এবং বিমানের সব ফ্লাইট ও গণপরিবহন বাতিল করে চীন সরকার। বন্ধ করে দেয় শহরের সব প্রবেশমুখ। ৭৬ দিন পর এই লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়।
গত জানুয়ারির ২৭ তারিখে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে উহানের মেয়র ঝু জিয়ানওং স্বীকার করেন যে, সময়মতো তার সরকার তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার হিসেবে আমরা কেবল অনুমোদিত তথ্যই প্রকাশ করতে পারি।
দায়িত্বে ‘অবহেলার’ অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে উহান ও হুবেই প্রদেশের বহু দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকে বহিষ্কার করে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার।
সাক্ষাতকারে ঝং আরো জানায় যে চীনের মানুষের রোগ প্রতিরোধ কম থাকায় দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমিত হলে দেশটিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরো জানায় যে চীনে এখনো দ্বিতীয় দফা করোনা হানা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৩ সালে সার্স মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চীনে ‘সার্স হিরো’ খ্যাতি পেয়েছিলেন ডা. ঝং। এবারো তার কাঁধে দেশের করোনা যুদ্ধের দায়িত্ব। সিএনএন।