ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই লক্ষাধিক মানুষের চলাচল!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লক্ষাধিক মানুষ। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোটি যে কোন মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। এটি ভেঙে গেলে ফুলছড়ির তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে কঞ্চিপাড়া, ফজলুপুর ও উড়িয়া ইউনিয়ন।

 

ফূলছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে বন্যার সময় পানির স্রোতে কেতকিরহাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে গাইবান্ধা-কঞ্চিপাড়া-কেতকিরহাট পাঁকা সড়কের কেতকিরহাট বাজার সংলগ্ন প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি ফুলছড়ি উপজেলার ঠিকাদার রাশেদ মিয়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন হওয়া ওই সড়কে ৬ ফুট প্রস্থের একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দেন। এরপর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিক্সা-ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আর কোন মেরামত করা হয়নি। ফলে বর্তমানে কাঠের সাঁকোটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপারের দৃশ্য। কাঠের সাঁকোটির পাটাতনের কয়েকটি কাঠের তক্তা ভেঙে গেছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরমধ্যেই মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। ঠেলে ঠেলে সাঁকো পারাপার করা হচ্ছে বাইসাইকেল। পারাপারের সময় দোল খাচ্ছে সাঁকোটি।

 

 

কেতকিরহাট গ্রামের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, সাঁকোর নিচের বাঁশের খুঁটি নষ্ট হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে সাঁকোটি ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

 

পার্শ্ববর্তী কঞ্চিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, জমিতে উৎপাদিত ধান, গম ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি বিক্রি করতে হাট-বাজারে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সাঁকোটি বিধ্বস্ত হওয়ায় ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে গাইবান্ধা জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেশি দিতে হচ্ছে। অথচ কাঠের সাঁকোটি সংস্কার করে হলে এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না।

 

উপজেলার পূর্ব কঞ্চিপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ছোট মেয়েটি কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। কাঠের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সে এখন আর একা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাই তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় সাঁকোটি পার করে দিয়ে আসি। আবার বিদ্যালয় ছুটি হলে সাঁকোটি পার করে আবার বাড়ীতে নিয়ে আসি। এতে করে আমার ব্যবসায়িক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

 

 

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

 

ফুলছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বন্যায় সড়ক ভেঙ্গে এ অবস্থা হয়েছে। তাই সেতু না পুনারায় সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নাই। তবে আপাতত কাঠের সেতুটি শীঘ্রই মেরামত করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023