স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার ধুনট উপজেলার পুকুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বাঁধটি। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দেখেও যেনো না দেখার ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি-পুকুরিয়া গ্রামে যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে ২০১৭ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পাউবো। স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের পকেট ভারি করতে প্রায় ১০ দিন ধরে পুকুরিয়া গ্রাম সংলগ্ন যমুনা তীরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বাসিয়েছে। হরদমে বালু উত্তোলন করছে তারা।
পাইপের মাধ্যমে বালু পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া বাজারে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি ট্রাক বালু মানভেদে ৮০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও ধুনট ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দুটি স্থানে পাশাপাশি তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় জনসাধারণের আশঙ্কা বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধসহ নদী ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দস ছোবাহান, আবুল হোসেন ও এমরান হোসেন বলেন, ধুনট উপজেলার শেষ সীমানা পুকুরিয়া গ্রাম ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শেষ সীমানা ঢেকুরিয়া গ্রামে ড্রেজারগুলো বসানো হয়েছে। মিঠু মিয়া, রেজাউল করিম, আবদুস সালামসহ কয়েকজন যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে তিনটি অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছে।
তারা জানান, বালু তোলার কারণে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষা না হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। কিন্তু অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসন দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
বালু ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনার চর থেকে বালু নিয়ে এসে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাছে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে আনলোড করা হচ্ছে। এতে প্রকল্প বা বাঁধের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, বালু উত্তোলনে প্রশাসনের লিখিত কোনো অনুমোদন না থাকলেও স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছে তারা।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী আসাদুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হলে অনেক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা এ প্রতিবেদককে বলেন, তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকা ও বাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যহত থাকবে।