১৫শ বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে আফগান সরকার, নাখোশ তালেবান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট

দেড় হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্তি দিতে মঙ্গলবার রাতে এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। সম্প্রতি তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির আওতায় তাদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। তবে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

 

যদিও গত ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে গত ১৮ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত ওই ডিগ্রিতে এক শর্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। শর্তটি হচ্ছে, মুক্তি পাওয়ার পর এসব তালেবানরা আর যুদ্ধে লিপ্ত হবে না এই মর্মে তাদের এসব বন্দি ‘লিখিত প্রতিশ্রুতি’ দিতে হবে।

 

এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ঘানির মুখপাত্র সেদিক সিদ্দিকী টুইটারে দেয়া এক পোস্টে জানান, ‘তালবান বন্দিদের মুক্তি সংক্রান্ত এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ঘানি। আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় তিনি এতে স্বাক্ষর করেছেন।’

 

পরে ঘানির কার্যালয় থেকেও এ সংক্রান্ত তথ্য প্রচারিত হয়। সেখানে কীভাবে এসব বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শান্তির চুক্তি আলোকে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই তাদের মুক্তি দেয়া হবে। আগামী ৪ দিনের মধ্যেই বন্দিদের মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও ডিক্রিতে উল্লেখ রয়েছে।

 

বিবিসি জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সই করা ওই ডিক্রি অনুযায়ী, ১৫০০ বন্দিকে ১৫ দিনের মধ্যে মুক্তি দিতে হবে। প্রতিদিন ১০০ বন্দি আফগান জেল থেকে বের হবে।

 

৫ হাজার তালেবানকেই মুক্তি দিতে হবে

 

এদিকে এসব বন্দিদের মুক্তি দেয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে টুইটারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন।

 

টুইটারে তিনি জানান, আফগানিস্তানের কারাগারগুলোতে আটক ৫ হাজার বন্দির তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে তালেবান গোষ্ঠী। তালিকা অনুযায়ী সব তালেবান বন্দিকেই মুক্তি দিতে হবে এবং এদের মুক্তির ব্যাপারে কোনো ধরনের প্রতারণা মেনে নেয়া হবে না।

 

এর আগে মঙ্গলবার দোহায় তালেবানের সদর দপ্তর থেকে একজন প্রবীণ নেতা বলেন, মুক্তি পাওয়া যোদ্ধাদের আনতে কাবুলের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বাগরান কারাগারের কাছে তারা গাড়ি পাঠিয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তালেবান নেতা ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে বলেন,‘সোমবার আমরা আফগানিস্তানের বিশেষ মার্কিন দূত জালমি খালিদজাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের ৫ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেয়ার কথা জানিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আমরা মুক্তিপ্রাপ্তদের জন্য গাড়ি পাঠিয়েছি।’

 

এএফপির কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক তালেবান নেতা বলেন, যেসব বন্দিদের মুক্তি চায় তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে গোষ্ঠীটি। কিন্তু সরকার সেই বিশ্বাস রাখছে না। তারা এমন বন্দিদের মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করেছে যারা বয়স্ক, অনেক অসুস্থ বা যাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

 

এর আগে প্রেসিডেন্ট ঘানি তালেবান বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ওই চরমপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনরকম চুক্তির ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে তালেবানদের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হন।

 

তবে তালেবান বন্দিদের মুক্তি দেয়া নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও আফগান সরকারের সাবেক প্রধান নির্বাহী (বর্তমানে প্রেসিডেন্ট) আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এমনিতেও দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক ভালো না। গত মাসে প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আশরাফ ঘানিকে বিজয়ী ঘোষণা করলে তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করেন। শেষে জটিলতার অবসানে সোমবার দুজনেই প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ওইদিন ঘানির শপথ অনুষ্ঠানে রকেট হামলা হয়।

 

এদিকে তালেবানদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদ।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সনি লেগেট সোমবার বলেন, বর্তমানে আফগানিস্তানে যে সেনা মোতায়েন রয়েছে ১৩৫ দিনের মধ্যে তা কমিয়ে ৮৬০০-তে নামিয়ে আনা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023