স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
নতুন রূপ পেয়েছে পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচালনাধীন আজিমপুর করবস্থান। ৭৪ দশমিক ৪২ বিঘা জমির ওপরে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানটিতে অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তির কবর রয়েছে। সম্প্রতি কবরস্থানটি আধুনিকায়নের ফলে পুরনো দৃশ্যপট পাল্টে এখন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। এতে মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা স্বাচ্ছন্দে কবর জেয়ারত থেকে শুরু করে সবকাজ করতে পারছেন। বিশেষজ্ঞ স্থপতিদের সমন্বয়ে কবরস্থানটির নতুন ডিজাইন তৈরি করেছে ডিএসসিসি।
সরেজমিন দেখা গেছে, এখনও নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করছেন। এরই মধ্যে কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রতি দুটি কবরের মাথার দিকে একটি করে লম্বা রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রাস্তা বিশেষ ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকা করা হয়েছে। রাস্তার নিচে রয়েছে পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ড্রেন। মুষলধারে বৃষ্টি হলেও এই কবরস্থানে আগের মতো আর পানি জমবে না। কবরস্থানের প্রধান ফটক, লাশ ঘর ও কেয়ারটেকারের অফিসও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঝ বরাবর প্রধান রাস্তাটিও স্থাপত্যশৈলীতে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। রাস্তা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ ধরনের সিরামিক ইট।
ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটির বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে আজিমপুর কবরস্থান আধুনিকায়ন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের কাজ ৭৫ ভাগ এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। কবরস্থানটি আধুনিকায়নের জন্য দুটি প্যাকেজের আওতায় সর্বমোট ৪৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ১৭১ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৮ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ে মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ।
আধুনিক এই কবরস্থানে এক হাজার ৬০০ মিটার দৃশ্যমান বাউন্ডারি দেয়াল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কবরস্থানের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ৩২০ মিটার বাউন্ডারি পুরু কাচ দিয়ে তৈরি— ফলে বাইরে থেকে কবরস্থানের ভেতর দেখা যায়। প্রতি দুটি কবরের মাথার দিকে চার ফুট চওড়া ১৬৮টি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়াকওয়ে বিশেষ ঢালাইয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। এর তলদেশে রয়েছে পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা। কবরস্থানটির পাশে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদের অবস্থান। এর পাশেই রয়েছে পানি ধরে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা।
কবরস্থানে প্রবেশের প্রধান গেট রয়েছে দুটি। এছাড়া, ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেন নাম্বারিংসহ প্রতিটি কবরের নম্বর নির্ধারণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কবর নাম্বারিংয়ের কাজ শুরু হবে। পুরো স্থানটি সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। কবরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতের ফুল ও সবুজ গাছ লাগানো— যা সবুজায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া পর্যাপ্ত অজুখানা, লাশের গোসল ও জানাজার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে।
জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘কবরই মানুষের শেষ ঠিকানা। এই বিশাল জনবহুল শহরে কেউ মারা গেলে তাদের বেশিরভাই আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। কিন্তু একজন মানুষ তার প্রিয়জনের কবরটি যখন দেখতে যান, তখন সুন্দর পরিবেশ পান না। এজন্য আমরা পুরো কবরস্থানটিকে আধুনিকায়ন করেছি। এখন কেউ কবরস্থানের ভেতরে গেলে মন জুড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ পাবেন। মাঝ বরাবর যে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটিও দেখার মতো। এখন যে কেউ পরিবার-পরিজনসহ কবরে আসলে বিশেষ একটা অনুভূতি পাবেন। কবরের পাশের সুন্দর ওয়াকওয়েতে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশিষ্ট স্থপতি রফিক আজমের তত্ত্বাবধানে এই কবরস্থানটির পুনরায় ডিজাইন করা হয়েছে। আমরা পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী কবরস্থানটিকে দৃষ্টিনন্দন করে দিয়েছি। এতে এখানে সব ধরনের সুবিধা রয়েছে।