মুক্তজমিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় সাখাওয়াত হোসেন শফিক
আমি বাঙালি আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২০

ষ্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত হয়েছেন বগুড়ার কৃতি সন্তান সাখাওয়াত হোসেন শফিক। তিনি বগুড়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল হোসেন ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। মা শামসুন নাহার গৃহিনী। পুরো পরিবারটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত একটি চেতনা সমৃদ্ধ পরিবার। স্কুল জীবন থেকেই সাখাওয়াত হোসেন শফিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের একজন সদস্য ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পদে ছিলেন। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকে অদ্যবধি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দৈনিক মুক্তজমিনের সঙ্গে কথা বলেন এই উদীয়মান রাজনীতিবিদ।

আপনার রাজনৈতিক জীবন
আমার মূল পরিচয়টা ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী। এটাই ছিল আমার মূল শিকড়। সেখান থেকে আমার আজকের এই উত্থান। ১৯৮৮ সালে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করি। সেখান থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ছাত্রলীগের একজন কর্মী থেকে তৎকালীন অগ্রজ নেতৃত্বের সঙ্গে সংযুক্ত হই। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তী সময়ে জামায়াতের ওপর ভর করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করে। যার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়ি়ক গোষ্ঠীর বর্বরতায়, নৃশংসতায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নসাৎ হয়। ‘৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবির ও তাদের সঙ্গে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রদায়ীকতা বিরোধী ছাত্রসমাজের ওপর হামলা করে এবং ওই সময় আমি গুলিবিদ্ধ হই। তাছাড়া ‘৯৬- এর ৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচিত অধ্যায়। সেদিন ছাত্রদল-ছাত্রশিবির ঐক্যবদ্ধভাবে প্রগতিশীল ছাত্রসমাজকে উৎখাত করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে গান পাউডার দিয়ে আগুন দেয়। সেদিন তপন, বিশ্বজিৎসহ প্রগতিশীল ছাত্রসমাজের অনেককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। আমিও শিবিরের সহিংসতার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হই। আমি ১৯৯৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে ২০০১ সালে ঢাকায় চলে আসি। পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত হই। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন আনোয়ারুল্লাহ। শামসুন্নাহার হলে রাতের অন্ধকারে পুলিশ এবং ছাত্রদল হামলা করে। এ ঘটনায় ভিসি আনোয়ারুল্লাহর বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ গর্জে ওঠে। এছাড়া প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সাদিকুন নাহার সনি নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। ২০০২ সালে আমাকে ডিবি পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। পরে বোমাবাজি, চাঁদাবাজিসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ৪ মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কামাগারে আটক রাখে। পরবর্তী সময়ে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হই। ২০০৫ সালে যখন খালেদা বিরোধী আন্দোলন চুড়ান্ত রূপ নেয় তখনো আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের পেটোয়া বাহিনী প্রচণ্ড আঘাতে জর্জরিত করে। আমাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হই।

আপনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত হয়েছেন। আপনার অনুভূতি কি?
সভানেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে জাতিকে একটি বার্তা দিয়েছিলেন। যেটি হলো, আগামী দিনের বাংলাদেশ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ, প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের শিক্ষিত, মেধাবী নেতৃত্বের দরকার। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা মনে করি, নেত্রী কাউন্সিলের আগে থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে খুব বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখেছিলেন। তার মধ্যে একটি বিষয় ছিল, প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সংমিশ্রণে একটি আধুনিক সংগঠন বা দল গড়ে তোলা। সেই সমীকরণে আমি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হই। আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন ছাত্রলীগ কর্মী। ছাত্রসমাজের একজন প্রতীক হিসেবে আমাকে এই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

আপনার আদর্শ
আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু। আমি বঙ্গবন্ধুর অনুসারী পরিবারের সন্তান। আমি মনে করি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে যেভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, অধ্যায় বিসর্জন দিয়েছেন। একজন মানুষ, একজন বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত। আমি তার সৃষ্টি করা সেই সংগঠনের একজন কর্মী। তার যে স্বপ্ন ‘ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ, একটি সুখী-স্বনির্ভর বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। আজকে বাংলাদেশে শুধু নয়, সারা বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে একজন নন্দিত জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমরা মাঝে মাঝে নিজেকে আনন্দে-উদ্বেলিত করি। আমরা চমকে উঠি, গর্ববোধ করি যে, আমার নেত্রী এখন আর আমার নেত্রী নয়, উনি এখন বিশ্বনেত্রী। সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মধ্যে উনি একটি আসন অলংকৃত করার মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করা হবে।

মুজিববর্ষ জাতির চেতনায় কেমন প্রভাব ফেলবে?
নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর চেতনা কীভাবে আরো বিকশিত করা যায়? মুজিববর্ষ নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে যার জায়গা থেকে অর্থাৎ স্ব-অবস্থান থেকে সবাই আমরা যেন একটি করে পজিটিভ কাজ, যা দেশের কল্যাণে লাগবে এরকম কাজ যেন করি। যে কোনো ইতিবাচক কাজে নিজেকে সামিল করতে পারি। দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারি। এই মুজিববর্ষ অনেকভাবেই আমরা ঐতিহাসিক করতে পারি। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি ইতিহাস সমৃদ্ধ উজ্বল একটি অধ্যায়। এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানার একটি প্রয়াস। আমরা জাতির পিতাকে আমাদের অন্তরে লালন করি। তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমরা একযোগে কাজ করে যাব। এভাবে জাতির পিতাকে সবসময় স্মরণ করব। শুদ্ধি অভিযানে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী রাজনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023