শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

উড়োজাহাজের নাটবল্টু খুলে লুকিয়ে স্বর্ণ আনছে কারা?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের নাটবল্টু খুলে লুকিয়ে স্বর্ণের চালান আনার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। এর মধ্যে কোনো কোনো চালান ধরা পড়লেও বেশির ভাগ চালান নিরাপদে বিমানবন্দর দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্যরা অভিনব কায়দায় এয়ারক্রাফটের টয়লেটে, সিটের নিচে ও উড়োজাহাজের বডির ভেতর স্বর্ণের চালান পাঠালেও এ পর্যন্ত এসব কারা কিভাবে পাঠাচ্ছে তাদের হদিস বের করতে পারেনি প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, পরে ওই স্বর্ণের চালানগুলো এদেশীয় এজেন্টরা কিভাবে বিমানবন্দর থেকে পার করছে তারও কোনো কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না কাস্টম গোয়েন্দাসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

 

সর্বশেষ গত রোববার সকাল সোয়া ৮টায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-১৪৮) আধুনিক প্রজন্মের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরপরই কাস্টম গোয়েন্দারা উড়োজাহাজটি তাদের হেফাজতে নিয়ে যান। একটানা ১০ ঘণ্টা তাদের হেফাজতে রেখে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এয়ারক্রাফটটি বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এর আগে এয়ারক্রাফটের টয়লেট, সিটসহ অন্যান্য স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও কোনো স্বর্ণ খুঁজে পাননি গোয়েন্দারা। এরপরই রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে আবার যাত্রী নিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়।

 

গতকাল চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকৌশল শাখার একজন কর্মকর্তা  নাম না প্রকাশের শর্তে শুধু বলেন, দুবাই থেকে বিমানের যে এয়ারক্রাফটটি এসেছিল সেটিতে কাস্টম গোয়েন্দারা স্বর্ণের চালান থাকতে পারে বলে সন্দেহ করে আটক করেছিলেন। কিন্তু আমি যত দূর জানতে পেরেছি এই এয়ারক্রাফট থেকে কিছুই মেলেনি।

 

বিমানবন্দরের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, সকালে এয়ারক্রাফট নামার পরপরই কাস্টম গোয়েন্দারা এয়ারক্রাফট তল্লাশি শুরু করে। কিছু না পাওয়ায় এরপর তারা বিমানের প্রকৌশল বিভাগের সহায়তা চায়।

 

দুপুরের পর প্রকৌশল শাখার উপস্থিতিতে কোনো কোনো অংশের এয়ারক্রাফটের নাটবল্টু খুলে তল্লাশি করার পরও স্বর্ণ থাকার কোনো কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তারা। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাস্টম গোয়েন্দারা এয়ারক্রাফটটি বিমান কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেন।

 

এর আগেও কাস্টম গোয়েন্দারা ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের একাধিক এয়ারক্রাফট তল্লাশি করে কখনো সিটের নিচ থেকে, কখনো টয়লেট থেকে স্বর্ণের চালান জব্দ করেন। এসব ঘটনায় বিভাগীয় মামলা দায়ের হলেও কারা এসব স্বর্ণের চালান অভিনব কৌশলে এয়ারক্রাফটের নাটবল্টু খুলে পাঠাচ্ছে তার হিসাব মেলাতে পারছেন না।

 

গতকাল সোমবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোকাব্বির হোসেন  চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টম গোয়েন্দাদের এয়ারক্রাফট তল্লাশির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এয়ারক্রাফটে কোনো স্বর্ণ পাওয়া যায়নি। কাস্টম নাকি বোর্ডিং ব্রিজে পেয়েছে। এর বাইরে আর কিছু জানি না। তারা এয়ারক্রাফট চেক করেছেন, এয়ারক্রাফটের টয়লেট চেক করে দেখেছেন কোথাও কিছু পাননি।

 

এর আগেও এয়ারক্রাফটের নাটবল্টু খুলে গোপনে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে এবং কারা এসব স্বর্ণ আনছে এমন প্রশ্নের উত্তরে এমডি বলেন, বাংলাদেশের বাইরের যেসব ডেস্টিনেশনে বিমান যায় সেখানে প্যাসেঞ্জার নামার পর ক্রুরা যখন নেমে যান তখন ওই এয়ারক্রাফটটি থাকে ওই দেশের কোনো এজেন্সির জিম্মায় অথবা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারের জিম্মায়। এখানে বাংলাদেশ বিমানের কেউ নাই।

 

তিনি বলেন, ঢাকায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করে বিমান। যতগুলো এয়ারক্রাফট আছে তার সবই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করে বিমান। ক্লিনিংসহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট দেয়। ঠিক একইভাবে বাইরে আমরা যেসব জায়গায় যাই সেইসব জায়গায় ওই দেশের কোনো এজেন্সি করে থাকে। ফলে টেকনিক্যাল লোক ছাড়া বিভিন্ন এয়ারক্রাফটের বিভিন্ন জায়গায় গোল্ড লুকিয়ে আনে তা টেকনিক্যাল লোক ছাড়া সম্ভব না। ঢুকানোর ক্ষেত্রে বিমানের কেউ জড়িত না।

 

তবে এখানে আসার পর বের করে নেয়ার ক্ষেত্রে বিমানের কারো কারো সহায়তা থাকতে পারে। সেটি যাতে না হয় সেটায় আমরা অ্যালার্ট আছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023