শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

২১ জানুয়ারি: বিশ্ব শান্তির কথা শোনালেন বঙ্গবন্ধু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

২১ জানুয়ারি ১৯৭২। এই দিনটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে বিশ্ব শাস্তির বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকারের নীতি ও অবস্থান ঘোষণার কারণে। এছাড়াও এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপের ঘোষণাও আসে।

 

এই দিনটিতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যরা সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এসময় বঙ্গবন্ধু তাদের জানান, তার সরকার বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাসী।  রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য শান্তি প্রয়োজন।

 

এদিন, বাসসের বরাত দিয়ে দৈনিক বাংলা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যদের বলেন, ‘আমি শান্তিতে বাস করতে চাই, যুদ্ধে বিশ্বাস করি না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বর্বরের হাত থেকে তার দেশকে মুক্ত করেছে।’

 

বঙ্গবন্ধু ‍বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যদের আশ্বাস দেন যে, তার সরকার পরাধীন মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন দেবে। তিনি বলেন, ‘নিরাপরাধ মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হবেই।’ নিরাপরাধ কারও সাজা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘অসামরিক মানুষদের এই নিধনযজ্ঞের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনে জাতিসংঘের এগিয়ে আসা উচিত। যারা এই হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় অংশ নিয়েছে বা এই পরিকল্পনার জন্য দায়ী, তাদের অনেকেই বাংলাদেশ সরকারের আওতার বাইরে বাস করছে। ন্যায়বিচারের জন্য তাদের দৃষ্টিগোচরে আনা উচিত।’

 

বঙ্গবন্ধুর কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রতিনিধি দলের নেত্রী মাদাম ইসাবেলী বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি গণহত্যা তদন্ত কমিশন চায়, তবে তার দল সেটি প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটির কাছে পেশ করবে।’ মিরপুরের শিয়ালবাড়ীর বধ্যভূমি পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নেত্রী বঙ্গবন্ধুকে বলেন, ‘এ বধ্যভূমি জার্মানির বন্দি শিবিরের অনুরূপ। এ বধ্যভূমির হত্যাযজ্ঞ নাজিদের গ্যাস চেম্বারকে হার মানিয়েছে।’

 

যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা হচ্ছে

 

যেসব ব্যক্তিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তাদের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হচ্ছে। বাসস বলছে, এই তালিকায় দুই শতাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৪ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন— ‘পাকিস্তান বাহিনীর বিচার হয় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা করবে, নতুবা ন্যায়বিচার হয়েছে এটা যেন বাংলাদেশের জনগণ অনুধাবন করতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

 

ভাসানীর দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন

 

বাংলাদেশের ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতির পুনর্গঠনে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে আহ্বান জানান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) প্রেসিডেন্ট মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। এনা’র বরাত দিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও গঠনমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করা জরুরি।’ ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের কথা উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, ‘আমরা এদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখবো। কিন্তু কারও দাসত্ব মেনে নেবো না।’ মওলানা ভাসানি ২২ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে ডাকলে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তার দেশে ফেরার বিষয়টি উদযাপনের জন্য শক্তিশালী অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বরণ করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। এ ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করার জন্য একটি বিশেষ কমিটিও করা হয়।

 

সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপ

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপ করা হয়েছে বলে বাসসের খবরে প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের যাবতীয় দেনা-পাওনা পরিষদকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বা স্বাধীনতার পরপর প্রশাসন ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে এসব পরিষদ যে কাজগুলো করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী পরিষদের প্রতি দেনা-পাওনা হিসাব-নিকাশ ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্থবিভাগে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

কাঁদলেন প্রধান বিচারপতি

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের নির্যাতন নিপীড়নের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাইকোর্ট উদ্বোধনকালে তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। বাংলাদেশের হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি এ এম সায়েম নবজাত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ হাইকোর্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি সর্ব শক্তিমান আল্লাহর আশীর্বাদ প্রার্থনা করে হাইকোর্টের অধিবেশন শুরু করেন। পূর্ণ কোর্ট অধিবেশনে বারের পক্ষ থেকে অভিনন্দনের জবাব দেওয়ার সময় বিচারপতি সায়েম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে পরবর্তী সময়ে যে নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবার তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদেশের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করেছে। আল্লাহ সবাইকে সেই দুঃখ-দুর্দশা সহ্যের ধৈর্য দিক’, প্রত্যাশা রেখে প্রার্থনা শেষ করেন তিনি।

 

সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে।’ রুশ সংবাদ সংস্থা এপিএনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। সবসময় সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকার জন্য সোভিয়েত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বঙ্গবন্ধু। এপিএন ভারত থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের পুনর্বাসনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও কর্ম সংস্থানের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। এসব বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্রকামী বাঙালিরা বিগত কয়েক বছর প্রতীক্ষায় ছিল।’

 

বাংলাদেশ মহান দেশ হবে

 

ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের নীতি নির্ধারণ বিষয়ক চেয়ারম্যান ডি পি ধর বাংলাদেশ মহান দেশ হবে বলে ভবিষ্যৎ বাণী করেন। বাসসের সংবাদে জানানো হয়, নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডি পি ধর এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান বাংলাদেশের আছে সুমহান ভবিষৎ।’ বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় এসেছেন। কিছু সমস্যা ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও সাংবাদিকদের জানানো হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023