স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক গরুর খামার। উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ছোট ও মাঝারি খামারি মালিক কোরবানীর ঈদে পঞ্চাশ হাজার গরু মোটা তাজা করার লক্ষ্যে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বর্তমানে করোনা উপসর্গের কারণে উপজেলার হাট বাজার গুলোতেও মাংসের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
এ বছর ঈদুল আযহায় করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে গরু হাটে বিক্রি ও বাজার দাম নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে এখানকার খামারিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জাফরিন রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে গরু মোটা তাজা করছেন খামারিরা। গরুর মাংস উৎপাদনের দিক থেকে এ উপজেলা অনেক এগিয়ে। উপজেলায় ছোট ও মাঝারি আকারের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গরুর খামার গড়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরু থেকে শতভাগ মাংসের চাহিদা পূরণ করা হয়। ঈদুল আযহায় গরু বিক্রি করার জন্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার গরু লালন-পালন করছে খামারিরা।
এ উপজেলায় গবাদীপশু কেনা-বেঁচা করার জন্য বড় হাটগুলোর মধ্যে মহাস্থানহাট, বুড়িগঞ্জহাট, ডাকুমারাহাট, শিবগঞ্জহাট, কিচকহাট, মোকামতলাহাট, দাড়িদহ হাট উল্লেখযেগ্য। এ হাটগুলো ছাড়াও ঈদুল আযহায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো ১০ থেকে ১৫টি অস্থায়ী হাট বসে। করোনার কারণে এসব হাট বসবে কিনা তা নিয়েও সঙ্কিত খামারিরা। উপজেলার খামারিদের মধ্যে অনেক বেকার যুবকেরা সরকারি, আধা সরকারি, এনজিও চালিত ব্যাংক ঋণ নিয়ে গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলছে।
এখানকার গরু স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হয়। খামারে গরু মোটা তাজা করণের প্রক্রিয়া চলছে। এখন শুধু ঈদুল আযহার আপেক্ষায় দিন গুনছে এলাকার গরু খামারিরা। মহাস্থান, বুড়িগঞ্জ ও ডাকুমারা হাটের গরু ঢাকা, নারায়ণগজ্ঞ, মাদারীপুর, রাজশাহী, সিলেট, চট্রগ্রামসহ দেশের বড় বড় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
কিচক ঘুগারপাড়ার খামারি বেলাল হোসেন বলেন, গত বছর ৫টি গরু ছিল খরচ বাদ দিয়ে ২ লাখ টাকা লাভ হয়েছিল, বর্তমানে ৩টি গরু আছে। করোনার কারণে বাজারে ভালো দাম মিলবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় আছি।
বেলাই কেকারপাড়া এলাকার খামারি হানজালা জানান, এবার ঈদে কেমন দামে গরু বিক্রি করতে পারব সেটা জানি না। বাজারে গোখাদ্যের দাম অগের তুলনায় অনেক বেশি। গরু বিক্রি করে ভালো দাম না পেলে ঋণের টাকা পরিষদ করাই কঠিন হয়ে যাবে। তার খামারে এবছর সৌখিন গরু আছে কিন্তু সে দাম নিয়ে হতাশ।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জাফরিন রহমান বলেন, খামারিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করে আসছি। তাদের পালনকৃত গবাদীপশু নিয়ে যে কোনো সমস্যায় প্রাণী সম্পদ বিভাগ পাশে থাকবে।