শিরোনাম :
যত্রতত্র গড়ে ওঠা ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির জাতিসংঘ সভাপতির দপ্তরে দায়িত্ব পেলেন জাইমা রহমান শিবগঞ্জে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ গাবতলীতে সৈয়দ আহম্মেদ কলেজে নবীর বরণ ও কৃতি সংবর্ধনা সরকার ১ কোটি বেকারের হাতে কাজ নয় চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে : ডা. শফিকুর রহমান গাজীপুরে আগুনে, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই মিরপুর-বাড্ডায় ৩ বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ রাজধানীতে একাধিক বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ একনেকে তিন মেট্রোরেল ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন ফ্যাসিস্ট আ”লীগের পথেই হাঁটছে বিএনপি : এটিএম আজহারুল ইসলাম

অশান্তি ভুলে পরিবর্তনের হাত ধরেছে নন্দীগ্রাম, হলদি নদীতে সেতু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের হাত ধরে ২০১১-য় রাজ্যের মসনদে বসেছিল তৃণমূল। তবে তৃণমূল জমানাতেও অশান্তি এড়াতে পারেনি নন্দীগ্রাম। বোমাবাজি, খুন, রাজনৈতিক হিংসায় বার বার শিরোনামে উঠে এসেছে। ভোট এলে যা আরও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিত এখানকার মানুষের মনে। ২০২৬-এ রাজ্যে পালাবদলের আঁচ পড়েছে নন্দীগ্রামের সেই পরিচিত ছবিতে।বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গত কয়েক মাসে কোথাও রাজনৈতিক হিংসা চোখে পড়েনি। যে নন্দীগ্রামে এক সময় দাপিয়ে বেড়াত তৃণমূল, এখন সেখানে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সঙ্কটে তারা। ২০২০-তে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির হাত ধরায় সমস্ত সরকারি ফলকে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল তাঁর নাম। পালাবদলের পরে খুলে দেওয়া হয়েছে নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামাঙ্কিত ফলকের আবরণ। ভোটের আগে তিনি এখানকার মানুষকে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একে একে তা পূরণ হওয়ায় খুশি নন্দীগ্রামের মানুষ। ভোটে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকেই তিনি উড়িয়েছেন বিজেপির পতাকা। নিয়মের বাঁধনে একটি কেন্দ্র, নন্দীগ্রাম তাঁকে ছাড়তে হলেও এখানকার মানুষকে উন্নয়ন নিয়ে ভরসা দিয়েছেন, আশ্বস্ত করেছেন। আর তাই পরিবর্তনের এই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী লক্ষাধিক ভোটে জিতবেন-দাবি গেরুয়া শিবিরের।

 

২০১৬-র বিধানসভায় নন্দীগ্রাম থেকে জিতে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন শুভেন্দু। হয়েছিলেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানও। সে সময় নন্দীগ্রাম জুড়ে হলদিয়া প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছিল। সমস্ত ফলকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নাম থাকত শুভেন্দুর। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে সমস্ত ফলকে তাঁর নাম ঢেকে দেওয়া হয়। নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মীদের উপর নেমে আসে তৃণমূলের লাগামছাড়া অত্যাচার। ২০২১-এর বিধানসভায় নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দেন শুভেন্দু। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরায় ফের নন্দীগ্রাম জুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক অশান্তি। বিজেপি কর্মীদের মারধর, বোমাবাজি থেকে বাদ যায়নি খুনের ঘটনাও।

 

তবে এখন তা অতীত। ২৬’-এর বিধানসভায় ফের জয় এবং রাজ্যেও তাঁর দল ক্ষমতায় আসায় অশান্তি ভুলে গোটা নন্দীগ্রাম উন্নয়নের নানা কর্মসূচিতে মেতেছে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সামসাবাদ অঞ্চলের ১৭ নম্বর শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ শেখ সহিদুল খান বলেন, ‘তৃণমূল এখানে সংখ্যালঘুদের ভুল বুঝিয়ে রেখেছিল। বিজেপি আসার পরে এখানকার মুসলিমরা বুঝেছে, পারবে। সমস্ত সংখ্যালঘু মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও অশান্তি নেই। মানুষ শান্তিতে আছে।’ নন্দীগ্রামের বাসিন্দা সুচরিত ভূঁইয়া বলেন, ‘শুভেন্দুবাবু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে নন্দীগ্রামে রেললাইন তৈরির কাজ গতি পেয়েছে। হলদি নদীর উপরে সেতু তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব থেকে বড় বিষয়, নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক হিংসা এখন অতীত।’

 

নন্দীগ্রামের বাসিন্দা বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, ‘নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতারা রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। ওঁদের অনেকে এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। পালাবদলের পরে নন্দীগ্রামের কোনও তৃণমূল নেতার উপরে হামলা হয়নি। কাউকে ঘরছাড়া হতে হয়নি। মানুষ এই পরিবর্তনটাই চেয়েছিল। যা এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে। উপনির্বাচনে আমরা এক লক্ষেরও।

 

সূত্র: এই সময়

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023