মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মধ্য দুপুরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে সাংগ্রিলা হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যদিও মূল সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের লাখো লাখো মানুষের দৃষ্টি থাকবে এ বৈঠকে। সবারই জানার আগ্রহ বৈঠকে এ দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে রাজনীতি অর্থনীতি নাকি অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদী পাশাপাশি চেয়ারে বসেছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের পাশাপাশি বসে থাকার ফটোগ্রাফ প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। কেউ বলছে পাশাপাশি বসলেও তারা চুপচাপ বসেছিলেন। আবার কেউ বলছেন তারা একে অপরের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের গণআন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের পলায়নের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার নেন।
এরপর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। ভারত সরকার বাংলাদেশের জনগণের ভারতে গমনাগমনের জন্য নামকাওয়াস্তে ভিসা চালু রাখে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হলেও চিঠির জবাব দেয়নি ভারত সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেশী দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি। অবশ্য প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল যাচ্ছে কি না- জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহাল রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান বিমসটেক সম্মেলনে যাওয়ার আগে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, অধ্যাপক ইউনূস ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার নেবেন। দুই যুগেরও বেশি সময় আগে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ জোট গঠিত হলেও খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বিমসটেক সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান অধ্যাপক ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ও নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন বলেন, ‘আমার মনে হয় না বৈঠকের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন হবে। ভারতের সঙ্গে এমনি আমাদের ওয়ার্কিং রিলেশন তো আছেই। এমন না যে কোনো কিছু থেমে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে ভারতের কমফোর্টেবল জোনটা চলে গেছে। সেটা তো একটা বড় ব্যাপার আছেই। তবে ভারতের মিডিয়ায় যা হচ্ছে সে ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সব মিডিয়া তো এক নয়। কিছু কিছু মিডিয়া এমনটা করছে। অফিসিয়াল বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে রিলেশনশিপগুলো চলছে, বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখছি না।’
আমেনা মহসিন এটাও মনে করেন, ‘বাংলাদেশের জন্য পলিসি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা আগামী নির্বাচন বাংলাদেশে কীভাবে হয় সেটা পর্যন্ত দেখতে চাচ্ছে। কারণ, ভারতেরও বাংলাদেশের প্রয়োজন রয়েছে। এটা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার। ওরা কখনোই বাংলাদেশের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক হোক তা চাইবে না। তারা একটি নির্বাচনী সরকারের জন্য অপেক্ষা করবে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, স্থানীয় সময় আজ দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ব্যাংককের সাংগ্রিলা হোটেলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। ( সূত্র-জাগো নিউজ)। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সম্মেলনের অফিসিয়াল নৈশভোজে অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদী পাশাপাশি বসে কুশলাদি বিনিময় করেছেন।