শিরোনাম :
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

জিআই পণ্যের মর্যাদা পেল বগুড়ার দই

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
  • আপডেট সময় বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩

ঐতিহ্যবাহী বগুড়ার দইসহ চারটি পণ্য জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক চিহ্ন হিসেবে স্বীকৃতি পেল। গত ২৬ জুনের সভায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) অনুমোদন দেওয়া হয়।

জিআই স্বীকৃতি পাওয়া অন্য পণ্যগুলো হলো– শেরপুরের তুলসীমালা ধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম। এ নিয়ে দেশের ১৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেল।

ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জুন দই ছাড়াও তিনটিকে জিআই পণ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি পণ্য প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই এগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’

২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর ডিপিডিটিতে বগুড়ার দইকে জিআই পণ্য করার জন্য আবেদন করে জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। আবেদনের প্রায় সাড়ে চার বছর পর স্বীকৃতি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী আলাল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ বগুড়ার দইয়ের স্বাদ নিয়েছেন। কিন্তু এগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এখন জিআই পণ্যের মর্যাদা পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলো। আশা করছি, ট্যারিফ লাইনেও বগুড়ার দইয়ের নাম শিগগিরই যুক্ত হবে।’

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদনে বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি উল্লেখ করেছিল, ‘প্রায় দেড়শ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদরের প্রয়াত নীলকণ্ঠ ঘোষ প্রথম এ দই তৈরি করেন। এরপর ধীরে ধীরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঁড়ে করে বাড়ি বাড়ি দই বিক্রি শুরু হয়। বগুড়ার দইয়ের স্বাদ নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন মহারানী ভিক্টোরিয়া ও রানী এলিজাবেথ। বগুড়ার দইয়ের সুনাম দেশজুড়ে। বিদেশেও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে নিয়ে যান। এ দইয়ের স্বাদ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বগুড়ায় আসেন এবং দেশের প্রায় সব জেলাতেই পণ্যটি বাজারজাত হয়ে আসছে। বগুড়ার দই এ স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলে আমরা আশাবাদী এবং এটি আমাদের অধিকার।’

আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিপিডিটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি ও সনদ দিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন হয়। ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা তৈরির পর জিআই পণ্যের নিবন্ধন নিতে আহ্বান জানায় ডিপিডিটি। এর পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৬ সালে স্বীকৃতি পায় জামদানি। এর পর একে একে স্বীকৃতি পেয়েছে ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, মসলিন, বাগদা চিংড়ি, কালিজিরা চাল, বিজয়পুরের সাদা মাটি, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম। নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হলো বগুড়ার দইসহ চার পণ্য। এখন থেকে পণ্যগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ৯৫টি পণ্যের তালিকা পাঠানো হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ে। জিআই পণ্য হিসেবে নির্বাচনে সেগুলো আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সংস্থার (ডব্লিউআইপিও) সব শর্ত পূরণ করে কিনা, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এতদিনে মাত্র ১৫টি পণ্যের জিআই স্বীকৃতি অর্জিত হলো। অথচ প্রতিবেশী ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন কন্ট্রোলার জেনারেল অব প্যাটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্ক জানাচ্ছে, দেশটির জিআই স্বীকৃত পণ্য ৩৭০টির বেশি। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করায় ভারতের কাছে নকশিকাঁথার মতো পণ্যের অধিকার হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ডিপিডিটি সূত্র জানায়, অন্তত ২৪টি পণ্যের জিআই স্বীকৃতির আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বাংলাদেশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম, কুষ্টিয়ার তিলেখাজা, কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম, নোয়াখালীর মহিষের দুধের দই, লতিরাজ কচু, সোনালি মুরগি, সাবিত্রী রসকদম, চাচুরি বিলের কৈ মাছ, নাক ফজলি আম, সুন্দরবনের মধু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি, জামালপুরের নকশিকাঁথা, ফুটি কার্পাস তুলা প্রভৃতি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023