যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সাল নিহতের ঘটনায় উত্তাল বোস্টন অঙ্গরাজ্য। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরের মেয়র অফিস ও পুলিশ দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা।
নিহত ফয়সালের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাতমারা ইউনিয়নে। ২০১৫ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করতেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের বোস্টন ক্যাম্পাসে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকে কেমব্রিজের এক বাসিন্দা ৯১১ নম্বরে ফোনে করে জানান, এক ব্যক্তি একটি অ্যাপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েছেন। তার হাতে চাপাতির মতো ধারালো অস্ত্র রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, তারা গুলি করার আগে ফয়সাল ধারাল ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে প্রথমে কয়েক রাউন্ড স্পঞ্জ ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু এতেও তিনি না থেমে পুলিশের দিকে আসতে থাকেন। তখন পুলিশের এক কর্মকর্তা গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ ফয়সালকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পরিবার বলছেন, ফয়সালের কোনো খারাপ অভ্যাস ছিল না। এমনকি তাদের পরিবারের কেউ কোনো অপরাধে জড়ায়নি কখনো। দেশেও পরিবারের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ছেলেকে গুলি করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তারা।
পুলিশের গুলিতে ফয়সাল নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা । ফয়সাল শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশিরা।
প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়া ফয়সালের চাচা সেলিম জাহাঙ্গীর সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সমাবেশে সবার একটাই দাবি ছিল—সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার। আমরা পরিবারও চাই এটি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সিটি হল প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশে কমিউনিটি নেতারা বলেন, নীরব থাকার অবকাশ নেই। আমাদের সংঘবদ্ধ আওয়াজ ওঠাতে হবে এমন বর্বরতার বিরুদ্ধে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট পারভিন চৌধুরী, সেক্রেটারি তানভির মুরাদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী প্রমুখ অংশ নেন।
সূত্র: সিবিএস, ফিলিপিন টাইমস।