আজ মঙ্গলবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ আওয়ামী লীগ খোঁজে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটিবারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে ২০০১ সালে ৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোট নিয়েই সরকারে এসেছে।” আর কোনোদিন বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে কি না- সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। সেজন্যই আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা দিয়ে এসেছিল।” বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আর খালেদা জিয়া বিনিময়ে কী করেছিল? ১৯৯১ সালে জামাতের সাথে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করল। যখন ১৯৯৬ সালে ইলেকশন, সেই ইলেকশনে জনগণের ভোট চুরি করল।” ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার পদত্যাগের বাধ্য হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা বিএনপির মনে রাখা দরকার যে জনগণের ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। জনগণ জানে কীভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হবে।” আওয়ামী লীগকে নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।” ভোটে বিএনপির হারের জন্য তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, একটি কথা আমি বলতে চাই, কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। ব্যাংকে টাকা নাই, টাকা নাই বলে মানুষ টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলি, এদের চোরের সঙ্গে কোনো সমঝোতা আছে কি না যে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়াবারো। চোর চুরি করে খেতে পাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো সমস্যা নাই, প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে। গুজবে কেউ কান দেবেন না। একটা শ্রেণি আছে, তারা এটা করছে। এর কারণ মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী। মিথ্যা কথা বলে তারা বিভ্রান্ত করতে চায়। বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ সামনের দিকে এগোয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছনে যায়। বলা হয় না, ভূতের পা পেছন দিকে। ওরা মনে হয় ভূত হয়ে ক্ষমতায় আসে। আমরা সেখান থেকে দেশকে আবার ঘুরে দাঁড় করিয়েছি। করোনা মহামারি ও বন্যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগকে সোনার ছেলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো কিছু করার আগে ছাত্রলীগকে পাশে রাখতেন। তাদের জানাতেন। আজও ছাত্রলীগ একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া হুমকি দিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। তারা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। আর আমি বই, খাতা, কলম তুলে দিয়েছিলাম। “২০১৮- এর ইলেকশন, এক সিটে যদি তিনজন করে নমিনেশন দেয়… এখানে ফখরুল একজনকে নমিনেশন দেয়, রিজভী আরেকজনকে দেয়, আর লন্ডন থেকে তারেক দেয় আরেকজনকে। যে যত টাকা পায়, সে ততটা নমিনেশন দেয়। সেখানে হল টাকার খেলা।” বিএনপির দুই নেতার কাছ থেকে এমন নালিশও পেয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের যারা ইন্টেলেকচুয়াল, অনেকে হয়ত ভুলেই গেছেন এই কথাগুলো লিখতে। সকালে একজনের নাম যায়, দুপুরে আরেকটা নাম যায়, বিকালে আরেকটা নাম যায়। এইভাবে হল তাদের ইলেকশন। ওইভাবে নির্বাচন করে জেতা যায় না।” বিএনপি গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাদের জন্মই হয়নি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে। ক্যান্টনমেন্টে বসে গোয়েন্দাদের সহায়তায় এই দলের গঠন।” দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের অনেক জ্ঞানী-গুণী দেখি বিএনপির সাথে হাত মেলায়, অনেক তত্ত্ব কথা শোনায়, গণতন্ত্রের সবক দেয়, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আমার সেই… আমাদের ওই যে বুদ্ধিজীবী… এরা বুদ্ধিজীবী নিজেদেরকে অনেকে বলে, আমি বলি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিজীবী। তারা আসলে বুদ্ধিজীবী না।” সরকার প্রধান বলেন, “আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই সমস্ত দুর্বৃত্তায়ন যারা করেছে, তাদের সাথে হাত মিলিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা কেন? আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী?” তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা জনগণের জন্য।” “বাংলাদেশে নাকি কিছুই হয়নি। বাংলাদেশ নাকি শেষ হয়ে যাচ্ছে। শেষ হয়ে কারা যাচ্ছে সেটা হলো প্রশ্ন। যে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে আমি ক্ষমতায় এসে দেখি মাত্র ৪৩/৪৫ ভাগ স্বাক্ষরতার হার। আমরা ৬৫ ভাগে উন্নীত করেছি। ২০০৯-এ এসে দেখি সেই ৬৫ ভাগ আর নাই। আবার কমে গেছে।” শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এদেশে স্বাধীনতাই চায়নি, যারা ওই স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে ঘর করে এবং তাদেরকে ক্ষমতায় বসাবার… তাদেরকে নিয়ে দল করে তারা তো এদেশের উন্নয়নটা কখনও মেনে নেবে না। চোখেও দেখে না। “মানুষ সামনের দিকে এগোয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশ পেছনে যায়। ওই যে আমি বলি না ভূতের পা পেছন দিকে। ওরাও বোধহয় ভূতের রূপ নিয়েই আসে আমাদের দেশে।”