শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

বগুড়ায় কৃষকের মুখে হাসি, ঘরে উঠছে সোনালি ফসল

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২

ঈদের আমেজ পড়ে গেছে চারিদিকে। ঈদ আয়োজনে ঘরে ঘরে ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। আর এই ঈদের আমেজে বগুড়ার মাঠে মাঠে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ঝরঝরা রোদে ঝনঝনিয়ে উঠা সোনালি বোরো ধান কাটছে চাষিরা। বাজারে ভালো দামের আশায় ঈদের আগে কাটা মাড়াই করে হাটে তুলতে শুরু করেছে ধান। ধান বিক্রি করে এবার বোরো চাষিদের ঘরে ঈদের আনন্দ লেগেছে। বগুড়া জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। সে কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সোয়া ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বগুড়ায়া।

বগুড়ার মাঠে মাঠে এখন সোনালী রঙের ঢেউ। রোদে পুড়ে সোনালী রঙ ধারণ করে আছে বোরো ধান। ক’দনি আগেও সবুজ ধান থাকলেও এখন সেনালী রঙ ধরায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। বোরা ধান কাটা মাড়ায় শুরু হওয়ায় কৃষকের গোলায় উঠছে নতুন ধান। বগুড়া জেলা শহরের শাখারিয়া, মাটিডালি, শ্যামপুর, সাবগ্রাম, ইসলামপুর, জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা, ধুনট উপজেলা, শেরপুর উপজেলা, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা, কাহালু উপজেলায় ধানকটা শুরু হয়েছে। বোরো ধান কেটে চাষিরা মাঠেই মাড়াই করে নিচ্ছে। ঈদ একেবারে কাছে চলে আসায় মাঠে মাড়াই করে হাটে নতুন ধান বিক্রি করে ঈদের আয়োজন সেরে নিচ্ছে। বেশিরভাগ চাষি ঈদকে সামনে রেখে সোনালী রঙের বোরো ধান কাটছে। হাটে হাটে ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মন। কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৭৫ থেকে ৮০০ টাকা মন। আর শুকনা ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা মন।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বগুড়া জেলায় প্রতিবছর বোরো ধান চাষের পর ভাল ফলন পাওয়া যায়। এই জেলার চাষিরা বোরো ধান চাষে অভিজ্ঞ। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ি ১৫ জানুয়ারীর থেকে বোরোর বীজ জমিতে রোপন শুরু হয়। পুরো দমে চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে। এবছর বগুড়া অঞ্চলে শীত বেশি থাকায় বোরোর বীজ তৈরী হয়েছে ঘনকুয়াশার মধ্যে। বীজতলা তৈরীর পর সময়মত চাষ হয়েছে বগুড়ায়। যে কারনে চলতি বছর ভালো ফলনের আশা করছে চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদু রহমান জানান, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে শেষ পর্যন্ত মোট আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে চাল আকারে উৎপাদন হবে ৮ লাখ ৭ হাজার ৬২৩ মেট্রিকটন চাল। তবে বেশি জমি ও ভালেঅ ফলনের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন সোয়া ৮ লাখ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ৮৮হাজার ৫১০ হেক্টর। আর চাল আকারে উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ১০ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন। এবছর প্রতি হেক্টরে ফলন পাওয়া যাবে ৫ থেকে ৬ টন করে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই রেকর্ড পরিমান জমিতে বোরো চাষ হয়ে থাকে। এবারও ভালো ফলনে ভালো দামের প্রত্যাশা করছেন চাষীরা। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন হবে বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও জেলায় শেষ পর্যন্ত বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বোরা চাষি আজাহার মিয়া জানান, সামনে ঈদ আসছে সে কারণে বোরা ধান কাটা মাড়ায় শুরু হয়েছে। পরিবারের জন্য নতুন পোষাকের ব্যবস্থা করতেই বোরো ধান কাটা শুরু করে হাটে বিক্রিও করা হচ্ছে। এবারে বোরো ধান বিক্রির টাকা দিয়ে ঈদের খরচ বের হবে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বোরো চাষি আবু মুসা জানান, ১০ হাজার টাকা খরচে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ৩০ মন ধান পাওয়া যায়। জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ধান রোপন শেষে এপ্রিল মাসের শেষে ধান কেটে ঘরে তুলতে হয়। কোথাও কোথাও আবার মে মাসের প্রথম থেকে ধান কাটা হয়ে থাকে। গত বৃহস্পতিবার সৈয়দ আহম্মেদ কলেজ হাটে প্রতিমন বিআর-১৮ ধান বিক্রি হয়েছে ৭৭৫ থেকে ৮০০ টাকা মণ।

বগুড়া সদরের মাটিডালি এলাকাার চাষী শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে বোর ধান চাষ করেছেন। প্রতি বছরই ভালো ফলন পাওয়া যায়, এবারো ভালো ফলনের আশায় ধান কাটা শুরু করেছেন। একদিকে কৃষি শ্রমিকরা ধান কাটছে আরেকদিকে মাড়ায় করে হাটে নিচ্ছে আরেক দল শ্রমিক। ঈদের আগে নগদ কিছু টাকা পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো ঈদ হয়ে যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দুলাল হোসেন জানান, ধান ও চালের মূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষক ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারো বাম্পার ফলন হবে। তাছাড়া বগুড়া কৃষি এলাকা। প্রতি বছরই এই বোরোর বাম্পার ফলন পাওয়া যায়। আশা করা হচ্ছে এবছরও বাম্পার ফলন হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এবার ঈদের আগেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলায় বেশির ভাগ দান কাটা শুরু হয়েছে। এছাড়া জেলার সোনাতলা, গাবতলী, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ধান কেনাবেচা শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023