বগুড়ায় দ্বিতীয় ধাপে এক লাখ ৬৩ হাজার ১৯৮ পরিবারের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নির্ধারিত ৯৬ জন ডিলারের মাধ্যমে মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও ছোলা বিক্রি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক।
পণ্য বিক্রির সময় উপস্থিত ছিলেন– জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর কবিরাজ তরুন চক্রবর্তী প্রমুখ।
পৌর কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী জানান, তার ওয়ার্ডে ৮৬৯ জন কার্ডধারী টিসিবির পণ্য কিনতে পারবেন। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পণ্য বিক্রির উদ্বোধন করেন প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ শেখ। এ সময় সমাজসেবক ফারুক আহমেদ পিটুসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ওয়ার্ডে ৮৪৯ জন টিসিবির পণ্য পাবেন। একই সময়ে শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কাউন্সিলর রেজাউল করিম ডাবলু।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে একজন কার্ডধারী ৫৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি চিনি, ১১০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৫০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি ছোলা ও ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। গত ২০ মার্চ বগুড়া জেলায় প্রথমবারের মত ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। শুরুর পর নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। কার্ড থাকায় কেউ ফিরে যায়নি।
টিসিবির পণ্য ক্রয়কারী শহরের কাটনারপাড়া এলাকার সাহিদুর রহমান ও দীপালী সাহা জানান, কম মূল্যে টিসিবির পণ্য পেয়ে তারা খুশি। তারা এভাবে সারাবছর পণ্য বিক্রি করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল জানান, তার এলাকায় ২৬ হাজার ৩৪২ জন এ সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে পৌর এলাকায় ১৯ হাজার ৩৮২ জন কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কিনতে পারবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুম আলী বেগ জানান, ইতোপূর্বে সুষ্ঠুভাবে প্রথম ধাপের পণ্য বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের এ কার্যক্রমের প্রথম দিন ১২ উপজেলার ২৯টি পয়েন্টে ২০ হাজার ২০২ পরিবারের মাঝে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব উপজেলা ও পৌরসভায় কার্ডধারীরা এ সুবিধা পাবেন।