শিরোনাম :
১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

দিনে কোটি টাকার খেজুরের গুড় বিক্রি হচ্ছে নাটোরের হাটে

মুক্তজমিন ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

নাটোরের খেজুরের গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিনই চলছে হাজার হাজার মণ গুড় কেনাবেচা। এই গুড়ে দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা। তাই চাহিদা তুঙ্গে।

উৎপাদিত গুড় বিক্রির জন্য নাটোর জেলায় প্রতিদিনই বসছে হাট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লালপুর, নাটোর সদর ও সিংড়া হাট।

বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া গুড়ের হাটের আড়তদার ইকবাল হোসেন জানান, সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বনপাড়া বাজারে গুড় বিক্রির হাট বসে। প্রতি হাটে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক গুড় কেনেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা আসেন এ হাটে।

লালপুর বাজারের আড়তদার জিল্লুর রহমান জানান, নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রতিদিনই লালপুরে বসে গুড়ের হাট। এলাকার হাজার হাজার গুড় তৈরিকারক তাদের গুড় নিয়ে এ বাজারে আসেন। বর্তমানে খেজুরের গুড় ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ মণ গুড় কেনেন। ওই হাটে তার মতো আরও ২০ জন আড়ত মালিক রয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, লালপুর, বনপাড়া, সিংড়া ছাড়াও নাটোর শহরের স্টেশন বাজারের আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায় খেজুরের গুড়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ ট্রাক গুড় কেনাবেচা হয়। প্রতি ট্রাক গুড়ের মূল্য ১০ লাখ টাকা হিসাবে দিনে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

ঢাকার দোহারের গুড় ব্যাপারী আব্দুল হাকিম জানান, তিনি প্রতি হাটে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মণ গুড় কেনেন। ওই গুড় ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করেন।

লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া এলাকার বাবলু জানান, প্রতি বছরই তিনি শীতের মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করেন। সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেন। এ বছরও তিনি ২৫০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে বিক্রি করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘১৫০টি গাছের রস দিয়ে একদিনে ৬০-৭০ কেজি গুড় তৈরি করি। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। প্রতি শীতের মৌসুমে গুড় বিক্রি করে সংসার চালানোর পর প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।’

বাবলু আরও জানান, এলাকায় তার মতো শত শত গাছি রয়েছে। ওই গাছিরাও তার মতো খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি ও বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিনই কেনাবেচা হচ্ছে খেজুরের গুড়। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা আসছেন গুড় কিনতে। নাটোরে কতজন গুড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিংবা প্রতিদিন কত টাকার গুড় বেচাকেনা হয় তার সঠিক হিসাব কৃষি বিভাগের কাছে নেই। তবে প্রতিদিনই ট্রাক ভর্তি গুড় যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে নাটোরে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা চলছে এই গুড় বেচাকেনায়।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023