শিরোনাম :
১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও হেরে গেলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১

শেষ ওভারটি করতে এলেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। পাকিস্তানের তখন প্রয়োজন মাত্র ২ রান। প্রথম বলে শাদাব খানকে কোনো রান দিলেন না। দ্বিতীয় বলটিকে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলেন শাদাব। বাউন্ডারির বাইরে গিয়ে আছড়ে পড়লো। ছক্কা। ৪ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো পাকিস্তান।

অথচ, জয়ের কী দারুণ সম্ভাবনাই তা তৈরি করেছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ফাখর জামান আর খুশদিল শাহকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দিয়ে সে সম্ভাবনাটা আরো জোরালো করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান আর শরিফুল ইসলামের দুই ওভারেই ম্যাচ নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান শাদাব খান আর মোহাম্মদ নওয়াজ। দুই ওভারে এই দুই বোলারই ১৫ রান করে দিলেন ৩০ রান। তাদেই ম্যাচ হাত থেকে ফসকে যায় বাংলাদেশের।

শাদাব খান আর মোহাম্মদ নওয়াজ মিলে ১৫ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেন। ১৮ এবং ১৯তম ওভারেই বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে। ১০ বলে ২১ রানে শাদাব খান এবং ৮ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

১২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান যখন ২৪ রানেই চারজন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে, তখন তাদের খুব বাজে অবস্থা টের পাওয়া যাচ্ছিল। সত্যিই দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান।

কিন্তু তাদেরকে ওই অবস্থা থেকে টেনে তোলেন ফাখর জামান এবং খুশদিল শাহ। ৫৬ রানের জুটি গড়েন এই দু’জন। সবচেয়ে বড় কথা দুর্দান্ত ব্যাট করে ম্যাচকে বাংলাদেশের হাত থেকে বের করে নিচ্ছিলেন তিনি।

সেই ফাখর জামানকে অবশেষে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তাসকিন আহমেদ। আউট সুইঙ্গার বলটি ফাখর জামানের ব্যাটে লেগে চলে যায় সোহানের হাতে। ৩৬ বলে খেলা ৩৪ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটে সেখানে।

৮০ রানের মাথায় ফাখর জামান আউট হওয়ার পর ৯৬ রানের মাথায় ফিরে যান আরেক সেট ব্যাটসম্যান খুশদিল শাহও। শরিফুল ইসলামের কোমর পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠা বলটিকে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে খুশদিল জমা দেন উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের হাতে। ৩৫ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। এ দু’জন আউট হওয়ার পর জয়ের বাকি কাজ সেরে ফেলেন শাদাব খান আর মোহাম্মদ নওয়াজ।

এর আগে ১২৭ রানকেই জয়ের পুঁজি বানিয়ে তুলছিল বাংলাদেশ দলের বোলাররা। মিরপুরের মাঠে এর চেয়ে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে না। কারণ, ১২৭ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জিতেছিল বাংলাদেশ। যদিও এবার প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা নেই এবার। সম্পূর্ণ নতুন একটি দল। এরা কী পারবে ১২৭ রান রক্ষা করতে?

অন্যদিকে পাকিস্তানের বিখ্যাত জুটি বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই দু’জনের ব্যাটে বিশ্বকাপে উড়েছিল পাকিস্তান। তারা যদি দাঁড়িয়ে যান তাহলে তো কথাই নেই।

তবে, তাদেরকে দাঁড়াতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। তৃতীয় ওভারের ৪র্থ বলেই জুটি ভেঙে দেন তিনি। মোস্তাফিজের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে রিজওয়ানের স্ট্যাম্প উড়ে যায়। ১১ বলে ১১ রান করে ফিরে যান পাকিস্তানের এই দুর্ধর্ষ টি-টোয়েন্টি ব্যাটার।

এরপর ফাখর জামানকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম। কিন্তু তাদেরকেও খুব বেশিক্ষণ দাঁড়াতে দিলেন তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে বাবর আজমের স্ট্যাম্পও উড়িয়ে দিলেন তাসকিন। তার গতিময় বলটি খেলতে গিয়ে ভেতরের কানায় লাগিয়ে স্ট্যাম্পে টেনে আনেন বাবর।

দুই পেসার তাসকিন আহমেদ আর মোস্তাফিজুর রহমানের তোপের মুখে দুই ওপেনার বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে হারিয়ে যখন ধুঁকছিল পাকিস্তান, তখন তাদের ওপর আঘাত হানেন স্পিনার শেখ মেহেদীও। তার ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়েছেন হায়দার আলিও।

রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি হায়দার আলি। এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটাতে মাঠে নামেন শোয়েব মালিকও। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন তিনি। ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হলেন তিনি। মোস্তাফিজের বলটি এক বাউন্সে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ছিল।

শোয়েব মালিক ছিলেন উইকেটের বাইরে। সোহান বলটি ছুঁড়ে দেন স্ট্যাম্পে। টিভি আম্পায়ারের কাছে আউটের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। দেখা গেলো শোয়েবের ব্যাট মাটি স্পর্শ করার আগেই স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। ২৪ রানে ৪র্থ উইকেট হারিয়ে বসলো পাকিস্তান। এরপরই জুটি গড়ে তোলেন ফাখর জামান এবং খুশদিল শাহ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023