শিরোনাম :
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা বগুড়ায় আমীরে জামায়াতের জনসভা সফল করতে ১০ দলীয় জোটের সভা শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থী ৭ জন শিবগঞ্জে অবৈধ মাটি মহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

কারসাজি চক্রের কারণে চালের দাম বাড়ছে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই। গত বোরো মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদন হয়েছে। এখন মাঠে আছে আমন। বন্যা না হলে আমনেও ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

 

কিন্তু এত ইতিবাচক খবরের পরও অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৫২ টাকায় উঠেছে। এই দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্য চালের দামও বাড়তি। ফলে এই করোনা মহামারির মধ্যে বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কারসাজি চক্রের কারণেই চালের দাম বাড়ছে। বেশি লাভের আশায় মিলার ও মজুতদাররা ধান, চাল মজুত করে রেখেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে ধান-চালের সরবরাহ কম। এই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, চালের দাম কমাতে সরকার সারা দেশে ওএমএস চালু করলেও বাজারে তা কোনো প্রভাব ফেলছে না।

 

 

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ‘নব্য মজুতদারদের’ কারণে চালের দাম বাড়ছে। করোনার কারণে অন্য ব্যবসায় মন্দা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ধান, চাল কিনে মজুত করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, খাদ্যমন্ত্রী যদি এই মজুতদারদের বিষয়ে জানেন তাহলে কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না?

 

দ্রুত চাল আমদানির সিদ্ধান্ত সরকারের

দেশে চালের সবচেয়ে বড় মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। গত কিছুদিন ধরেই এই মোকামসহ অন্যান্য মোকামেও চালের দর বাড়তি। ধানের ব্যাপক মজুত গড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ দেশের অটো রাইস মিলের মালিকসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল ২ হাজার ৮৫০ টাকা, বাশমতি ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, কাজললতা ২ হাজার ৬০০ টাকা ও মোটা জাতের ব্রি-২৮ ও স্বর্ণা ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি চালভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। অন্য মোকামের অবস্থাও একই। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

 

 

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৪৭ থেকে ৫২ টাকা, মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে গত এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, মাঝারি মানের চাল ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও সরু চালের দাম ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

 

দ্রুত চাল আমদানির সিদ্ধান্ত সরকারের

চালকল মালিকদের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই এক শ্রেণির অসাধু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ধান কিনে বড় মজুত গড়ে তুলেছে। মোকামের বড় বড় মিল মালিকদেরও এখন মজুত আছে মাত্র ১০/১৫ দিন মিল চালানোর মতো ধান। ফলে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়তি দামে কিনে মিল চালাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদিত চালের দর বেড়ে যাচ্ছে। ধানের দাম না কমলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানান চালকল মালিকরা।

 

তবে ধানের দাম বৃদ্ধি ও চালের ঊর্ধ্বগতির পেছনে মোকামের চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, চাল বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামের অটো রাইস মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কুষ্টিয়াসহ দেশের দক্ষিণ-উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টন ধান মজুত গড়ে ধান-চালের বাজারে সংকট সৃষ্টি করেছে।

 

কমলো চালের আমদানি শুল্ক

অসাধু চালকল মালিকরা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ঋণ নিয়ে ঐ টাকায় ধান কিনে মজুত গড়ে তুলেছে। বেআইনিভাবে অতিরিক্ত মজুতকৃত ধান জব্দ ও বাজারে উন্মুক্ত করা গেলে ধানের বাড়তি দাম ও চালের ঊর্ধ্বমুখী দর নিয়ন্ত্রণে আসবে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারাদেশে ৩ হাজার ৫০০টি অটো রাইস মিল এবং ১৮ হাজার ৫০০ রাইস মিল রয়েছে। যারা দেশে ধান-চালের বড় ক্রেতা এবং সরবরাহকারী। এদের পাশাপাশি এখন বড় বড় বেশ কয়েকটি করপোরেট কোম্পানি রয়েছে।

 

যারা খাদ্যপণ্যের ব্যবসা করে। তাদের কাছে চালের বড় মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গবেষণা বলছে, প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত চালের ২৪ থেকে ২৬ শতাংশ এই বড় কোম্পানিগুলোর খাদ্যবহির্ভূত পণ্য তৈরির পেছনে চলে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023