স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল , মোটর মালিকদের কার্যারয়ের দখল নিতে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চলা এই হামলায় নেতৃত্ব দেন মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক আহ্বায়ক ও বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহন। হামলায় মোহনের প্রতিপক্ষ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওযার্ড কাউন্সিলর আমিনুর ইসলামের অফিস ও তার মালিকানাধীন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার। এছাড়া হামলার সময় উন্মত্ত্ব হামরাকারীদের হাতে ডিএসবির রমজান আলী নামের একজন ওয়াচার ও গাজি টেলিভিশনের ক্যামেরা পার্সন রাজু আহম্মেদ সহ ১০ জন বাস যাত্রী ও পথচারি আহত হয়েছেন। শুরুর দিকে হামলাকারীদের ব্যাপারে পুলিশ নমনীয়তা দেখালেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ঘটনার বর্ননা দিয়ে বলেন , বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রন নিয়ে এর সাবেক আহ্বায়ক আওয়ামীলীগ নেতা মোহন ও তার বিরোধি গ্রুপের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব , মামলা মোকর্দমা চলার মধ্যেই সোমবার সকালের দিকে মোহন তার সহ¯্রাধিক অনুসারিদের নিয়ে শহরতলীর চারমাথা বাসটার্মিনালের পুর্বদিকে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে তার প্রতিপক্ষ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তার অনুসারিদের জড়ো করে দখল প্রতিরোধের উদ্যোগ নেন। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করলে উৎসাহিত হয়ে মোহনের সমর্থকরা সশস্ত্র বেশে টার্মিনাল, মোটর মালিক গ্রুপের অফিস, কাউন্সিলর আমিনুলের অফিস ও আমিনুলের মালিকানাধীন শাহ পতেহ আলী পরিবহন কাউন্টারের দিকে ধাওয়া করে এগিয়ে যায়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আমিনুল ও তার সমর্থকরা পিছু হটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ফলে বিনা বাধায় মোহন সমর্থকরা তাদেরকৃত এলাকায় রীতিমত ধ্বংস লীলা ও লুটতরাজ চালায়। হামলাকারীরা ৫টি মোটর বাইক জালিয়ে দেয়। অফিসের সব আসবাবপত্র ভাংচুর করে আগুন দেয়। মোবাইল ও টাকা পয়সা লুটে নেয়। এসবের চিত্র ধারন করার অপরাধে তারা গাজি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন রাজু আহম্মেদকে পিটিয়ে জখম করে।এছাড়াও সাংবাদিক ভেবে ডিএসবি ওয়াচার রমজান আলীকেও ছুরিকাঘাত করে। তাদেও হাতে কয়েজন বাসযাত্রীও আহত হয়। পরিস্থিতির অবনতি দেখে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। তারা লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, খান্দারের আদিলসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ঘটনার পর থেকে বাসটার্মিনালের সকল টিকেট কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। টার্মিনাল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক যান চলাচলও। যে কোন মুহুর্তে পুনরায় সংঘর্ষ শুরুর আশর্ংকায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।