স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় করোনার টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষ্যে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মঞ্চের আয়োজন করা হয়। রোববার সকাল ১১ টা ১৮ মিনিটে সেখানে বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক নিজে গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
পরে ভিতরের বুথে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা টিকা গ্রহণ করেন। এর পর পরই ওই হাসপাতালের ৮টি বুথে রেজিস্ট্রেশন করা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষ টিকা গ্রহণের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে যান।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, করোনার টিকা গ্রহণের জন্য শনিবার পর্যন্ত জেলার ১২টি উপজেলা থেকে মোট ৬ হাজার ১৬১জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তিনি জানান, বগুড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল ভিত্তিক মোট ৫১টি বুথ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া মোহাম্মদ আলী ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৮টি করে ১৬টি এবং ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ৩টি করে মোট ৩৩টি বুথ চালু করা হয়েছে। এর বাইরে পুলিশ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আরও একটি করে বুথ খোলা হয়েছে।
টিকা গ্রহণের পর বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক জানান, তার কোন সমস্যা হচ্ছে না। তিনি আগের মতই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তিনি উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সকলকে নির্ভয়ে টিকা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গত ২৯ জানুয়ারি বগুড়ায় মোট ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল টিকা পাঠানো হয়। প্রতিটি ভায়াল থেকে ১০জন করে মোট ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে একবার টিকা দেওয়া সম্ভব।
বগুড়ায় করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনায় গঠিত অ্যাডভার্স ইভেন্টস্ ফলোয়িং ইমিইনাইজেশনের (এইএফআই) অন্যতম সদস্য ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, একটি টিকা প্রদান করতে গড়ে ২ মিনিট সময় লাগে। সেই হিসাবে একটি বুথে সারাদিনে বহু সংখ্যক মানুষকে টিকা প্রদান করা সম্ভব। কিন্তু প্রতিটি ভায়াল খোলার পর ১০জনকে প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সে কারণে স্বাস্থ্য কর্মীদের ১০জন মানুষ একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া টিকা গ্রহণকারীকে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণও করতে বলা হয়েছে। এসব বিবেচনায় হয়তো টিকা প্রদান কার্যক্রম কিছুটা ধীর গতির হতে পারে।
রোববার সকালে উদ্বোধনের পর বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে টিকা নিতে আসা উপশহরের বাসিন্দা ও আদমদীঘি উপজেলা সমবায় অফিসার আব্দুস সালাম জানান, জনগণের সুবিধার জন্য সরকার টিকা নিয়ে এসেছেন। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। অবহেলা না করে আমাদের উচিত টিকা নেওয়া।
লাইনে দাঁড়ানো পঞ্চাশোর্ধ ঠনঠনিয়ার ইসাহাক আলী জানান, ভয় লাগছে না। ভালোই লাগছে টিকা নিতে এসে।
হাসপাতালের ভিতরের বুথে লাইনে দাঁড়ানো চকসূত্রাপুরের তানিজ ফাতেমা নামে এক নারী জানান, সুস্থ থাকার জন্য টিকা নিতে এসেছি। ভয় কাজ করছে না।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, টিকার তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তার পরেও কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স এবং যারা গর্ভবতী মহিলা তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে না। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সেগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে টিকা নিতে কোন সমস্যা নেই।
স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, টিকা নিতে আসা ব্যক্তিরা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা নিতে পারেন আমরা সেজন্য কাজ করে যাচ্ছি। নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে সবাইকে সারিবদ্ধভাবে লাইন করে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সকলের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।