স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
একটি হত্যা মামলার আসামীকে জামিন না দেয়ার জেরে বগুড়া জেলা জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকারকে গালি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আইজীবি ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম মন্টুর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জেলা আইনজীবি সমিতি ওই বিচারকের আদালত ১৭ জানুয়ারি থেকে বর্জন ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও বেশির ভাগ আইজীবি বারের সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিয়মিত কাজ কর্ম অব্যহত রেখেছেন। অপরদিকে ব্যক্তিগত বিষয়ে বার সমিতি কেন কোর্ট বয়কটের কর্মসূচি দিয়েছে সেই বিষয় জানাতে চেয়ে আরেক আইনজীবি সদরুল আনাম রনজু বগুড়া জেলা আইনজীবি সমিতিকে লিগ্যাল নোটিশ করেছে। সব মিলে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বগুড়া জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন এবং নারী ও শিশু নির্যাত দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট নরেশ মূখার্জ্জী বলেন, গত ১১ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলায় আসামীর জামিন আবেদন করেন এ্যাড. রেজাউল করিম মন্টু। বিচারক তার আবেদনটি না মঞ্জুর করেন। তখন রেজাউল কমির মন্টু জজ সাহেবের উদ্যেশ্যে বলেন, কেন জামিন মঞ্জুর করলেন না? তখন জজ বলেন আমরা অর্ডার দেয়ার পরে কোন ব্যাখ্যা দেই না। তখন তিনি (রেজাউল করিম মন্টু) জজের উপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন। এসময় তিনি হিন্দু সম্প্রদয় তুলে গালিদেন। পরে তারা বার সমিতির একটি তলবি মিটিং ডাকেন। সেই মিটিংয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু এবং আরেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন মুকুল জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকারকে হিন্দুর বাচ্চা, নেংটির বাচ্চা, ছোট লোকের বাচ্চাসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এই দুই পিপি আরো বলেন, রেজাউল করিম মন্টু ওই ঘটনায় তার কাছের কিছু লোকজন নিয়ে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। হিন্দু সম্প্রদয়ের বিরুদ্ধে এভাবে প্রকাশ্যে গালি দেয়ায় ওই কোর্টের ৮০জন হিন্দু আইনজীবি চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। রেজাউল করিম মন্টু এর আগেও বিভিন মেজিট্্েরটকে গালি দিয়েছেন বলেও তারা জানান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযেগে হাইকোটে মামলা একটি হয়েছে। সিভিল রুল ৫৭১/১২। এমন তথ্যও দিয়েছেন ওই দুই পিপি।
এদিকে বগুড়া বার একজন আইনজীবি ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য কেন বয়কটের মত কর্মসূচি দিলো তার কারণ জানতে চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ করেছেন এ্যাডভোকেট সদরুল আনাম রনজু। তিনি জবাব দেয়ার জন্য সাত দিনের সময় বেধে দিয়েছেন বারের নেতৃবৃন্দকে। তার মতে বার সমিতি কোন ব্যক্তির হয়ে কর্মসূচি দিতে পারে না। বারের ওই কর্মসূচি গঠনতন্ত্র বিরোধী।
এবিষয়ে বগুড়া বার সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম টুকুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, লিগ্যাল নোটিশটি সংবিধান বিরোধী। আমরা এই লিগ্যাল নোটিশ নিয়ে ফোরামে কথা বললে অনেকেই নোটিশটি ছিঁড়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে ওই নোটিশের জবার দেবেন বলে জানিয়েছেন। আর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বগুড়া জেলা জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার মাঝেমধ্যেই আইনজীবিদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। এ্যাড. রেজাউল কমির মন্টু সাহেবের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেছেন। ওই সময় মন্টু সাহেবের তার কথা কাটাকাটি হয়। গতকাল ২৬ জানুয়ারি বার সমিতির মিটিংয়ে আদালত বর্জন কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে এ্যাডভোকেট রেজাউল কমির মন্টু বলেন, আমি তাকে গালি দেয়নি। কেউ যদি এমন কথা বলে সেটি মিথ্যে ভিত্তিহীন। আমার একজন মক্কেল হত্যা মামলায় জেলে আছে। সে হত্যার সাথে জড়িত নয়। সরাসরি হত্যার সাথে জড়িত এমন আসামীদের জামিন দিলেও তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। আমি শুধু আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে এবিষয়ে তার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলেছি। তিনি জোর দিয়ে বলেন ওই দিন তিনি কাউকে গালি দেননি।
রেজাউল কমির মন্টু বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বগুড়া পৌরসভার নৌকা প্রতীকের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যানার ফেস্টুনে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।