নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মাছ চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৎস্যচাষী আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। রবিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার বেল-ঘরিয়া উত্তরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মৎস্যচাষী আলতাফ হোসেন উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট থেকে মাছ চাষ করার জন্য সরকারি একটি পুকুর ইজারা নেন। সেই পুকুরে তিনি বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করে আসছিলেন। ইতিমধ্যে পুকুরটির ইজারার মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় তিন বছরের জন্য ইজারা দিতে গত ৩০ জানুয়ারি জলমহাল কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। পুকুরটি ইজারা নিতে বেল-ঘরিয়া দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি আবেদন করে। এদিকে গোপনে ভাগবজর দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি শাহীন সরদার ও সেক্রেটারী মোরশেদুল বারী হয়ে পুকুর ইজারা নেয়ার জন্য আবেদন করে। কিন্তু ভাগবজর দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবি সমিতি প্রকৃত সভাপতি আবুল হোসেন। এ সংক্রান্ত আবুল হোসেন বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। তারপরেও জলমহাল কমিটি ভাগবজর দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবি সমিতিকে পুকুর ইজারা দেয়ার চেষ্টা করলে নন্দীগ্রাম সহকারী জজ আদালতে জলমহাল কমিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় গত ২৩ মার্চ আদালত উভয়পক্ষকে স্থিতি অবস্থায় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তখন বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেল-ঘরিয়া দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সফির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভায়ালেশন মামলা করেন। বর্তমানে উভয় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র হুকুমে ও ইন্ধনে বিভিন্ন প্রকার অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ১৫/১৬ জন মৎস্যচাষী আলতাফ হোসেনের চাষকৃত পুকুরের মাছ চুরি করে। এতে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ বলেন, মামলার বিষয়ে আমি জানিনা। এটা তাহলে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবির বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আদালত থেকে থানায় মামলার কাগজ এসেছে। তবে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।