শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

নন্দীগ্রামে দৃষ্টিনন্দন তিনতলা মাটির বাড়ি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মাটির বাড়ি। এ ধরনের বাসস্থান শীত ও গরমের সময় বেশ আরামদায়ক। একসময় গ্রামের বিত্তশালীরা অনেক টাকা-পয়সা ব্যয় করে মাটির বাড়ি তৈরি করতেন। তবে ইট, বালি ও সিমেন্টের আধুনিকতায় মাটির বাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নিমাইদীঘি গ্রামে রয়েছে ৪৩ বছর আগে বানানো ৭ কক্ষের তিনতলা মাটির বাড়ি।
সরেজমিন দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের নিমাইদীঘি গ্রামে মাটির তিনতলা বাড়িটি অবস্থিত। বাড়িটি ১২ শতক জমির ওপর নির্মিত। মাটির বাড়িতে টিনের ছাউনি দেয়া হয়েছে। মাটির এই বাড়িটি দেখতে অনেকটা প্রাসাদের মতো। ১৯৭৬ সালে এই বাড়িটির নির্মান করেন ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মন্ডল। তিনি শখের বসে এ বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে ইদ্রিস আলী মন্ডল বসবাস করছেন। তবে তার এই স্মৃতি এখনও আছে।’
ইদ্রিস আলী মন্ডল বলেন, মাটি, খড় ও পানি ভিজিয়ে কাদায় পরিণত করে ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। এ দেয়াল তৈরিতে বেশ সময় লাগে। কারণ একসঙ্গে বেশি উঁচু করে মাটির দেয়াল তৈরি করা যায় না। প্রতিবার এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার ওপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরি করা হয়। এ ভাবে তিনতলা বাড়িটির ৩৫-৪০ ফুট উঁচু নির্মিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মাটির তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করতে ৫ মাস সময় লাগে। তবে এই বাড়িটি সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৯ মাস। সেই সময় এর পেছনে কাজ করেছিল অর্ধশতাধিক শ্রমিক। তিনতলায় ওঠার জন্য রয়েছে মই।

বর্তমানে বাড়িটিতে ইদ্রিস আলী মন্ডলসহ তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে বসবাস করছেন। তবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বাড়িটি হয়ে উঠতে পারে গ্রাম বাংলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এ বাড়িটি দেখার জন্য লোক আসে।

এ বিষয়ে থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। উপজেলার সবচেয়ে বড় তিনতলা মাটির বাড়ি এটাই। বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘর। তবে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বাহক ও পর্যটকদের জন্য দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থান নিমাইদীঘি গ্রাম।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023