বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (এরেস্ট ওয়ারেন্ট) জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আইসিটি বিডি মিস কেস ২৭/২৫ মামলায় (ইলিয়াস আলী গুম) পূর্বে গ্রেফতার ছিলেন জিয়াউল আহসান। আজ এই মামলায় সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
রবিবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহাদী।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়।
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।
এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) । পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সাইফুরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেই অনুযায়ী রবিবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
তবে সেনা হেফাজতে থাকায় তাকে আর নতুন করে গ্রেফতার করার প্রয়োজন হবে না। ওই পরোয়ানা জারির ফলে তাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে এবং এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হবে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করা হয়। আর র্যাবের গোয়েন্দা শাখা তাতে সরাসরি জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বিমান বাহিনীর তখনকার স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান সেই সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর সর্বশেষ বিমান সদর দফতরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’ ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।