মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বন্ধ হওয়া সব কারখানা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে গত এক মাস আগে বিশেষ বৈঠক হয়। চলতি সপ্তাহে আরও বৈঠক হবে। এ জন্য দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অতীতে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ফলে মানুষ ছাত্র-জনতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন দেশ গড়ার পালা। সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলবো।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সামনে একটি ব্যানার আছে, যেখানে লেখা রয়েছে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। এই সরকার গঠিত হওয়ার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি। এক মাস আগেই আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে, কীভাবে আমরা কত দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালু করতে পারব, যাতে যে সকল শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের পুনরায় কর্মের ব্যবস্থা করা যায়। সেই বৈঠকটি এই সপ্তাহে আবার নির্ধারিত হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে যে সকল কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা সেগুলো আবার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে শুধু বন্ধ কলকারখানা চালু হলেই সকল শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে না। বর্তমানে দেশে আরও লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক রয়েছেন। তাদের জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করেছি। আমরা তাদের উৎসাহিত করছি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি, যাতে বিনিয়োগকারীরা এই দেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করেন।
তিনি বলেন, আমরা জানি, এই দেশে কলকারখানা তৈরি হলে এ দেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শ্রমিকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে; কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যখন ভালো থাকবে, তখনই কেবল বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হকার ভাইদের অবস্থানের কারণে যানজটসহ সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছিল, তাই আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমরা এটিও বুঝি যে তারাও মানুষ; তাদের পরিবার আছে এবং তাদেরও খেয়ে-পরে বাঁচতে হবে। সে কারণেই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি যে, হকার উচ্ছেদ করলেই হবে না, এই মানুষগুলো যাতে সম্মানের সাথে ব্যবসা করে জীবন ধারণ করতে পারে, তার ব্যবস্থাও করতে হবে। এরই মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা জানি, সকলকে হয়তো একসাথে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে না, তবে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা ব্যবস্থা করব।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের নির্বাচিত সরকার অবশ্যই খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সে কারণেই আপনারা দেখেছেন, গতকাল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীতে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হকাররা যাতে শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার শিকার না হন, সেজন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে তাদের ধীরে ধীরে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি আমরা।