শিরোনাম :
দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ৬০ অর্জন বগুড়ায় সাইক জেনারেল হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি সেন্টার’র যাত্রা শুরু বগুড়া ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি অসাম্প্রদায়িক-শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনও অধরা জাতিসংঘে দাসত্ব ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃত, বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর কাহালুতে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শিবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বগুড়া প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা শিবগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরির অভিযোগে শিপন গ্রেফতার

রাস্তার কারণে বিয়ে হচ্ছে না যে এলাকার ছেলেমেয়ের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুড়িয়া ইউনিয়নের কাশিয়ারা, শিবরামপুর, হরিণাসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটির বেহাল দশা। শিক্ষার্থী ও রোগীসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে চলাচলে কষ্ট পোহাতে হয় এ অঞ্চলের মানুষকে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেও চায় না কেউ এ গ্রামে। রাস্তার পাশে থাকা গাছের কারণে টেন্ডার হওয়ার পরও কাজ হয় না রাস্তার। ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ। জনদুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার অবসান ঘটাতে রাস্তাটি পাকা করা প্রয়োজন এবং রাস্তাটি পাকা করার জন্য গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে কর্তন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের চাটশাল পাকা রাস্তার মোড় থেকে শিবারামপুর গ্রাম পর্যন্ত কাঁচা এ রাস্তা দিয়ে আশপাশের ১০ গ্রামের বাসিন্দারা চলাচল করেন। প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুম এলেই বৃষ্টিতে কাদা জমে এসব গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেও চায় না কেউ এই গ্রামে। গ্রামবাসী বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেননি জনপ্রতিনিধিরা। এতে প্রায় ১০ গ্রামের ২০ হাজার বাসিন্দা ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি দেখে মনে হয় হাল চাষ করার জমি। কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলে এলাকাবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ শিশুশিক্ষার্থী ও পথচারী এবং মসজিদের মুসল্লিদের চলাচলে দুর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তাটির পাশে থাকা গাছ কর্তন না করার ফলে টেন্ডার হওয়ার পরেও কাজ শুরু হয়নি। এমন ভোগান্তির প্রতিবাদস্বরূপ রাস্তাটিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন গ্রামবাসী ও পথচারীরা।

কথা হয় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এমপি ও চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় এসে বড় বড় কথা বলে যান। নির্বাচন পার হলে তারা আর এলাকায় আসেন না। আমরা এ এলাকার মানুষ কি অপরাধ করছি জানি না, যার খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। গ্রামের রাস্তার এমন বেহাল দশা যে বর্ষা মৌসুমে আমরা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারি না। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। এমনকি এ এলাকার ছেলেমেয়েদের কেউ বিয়েও করতে চায় না। বর্ষার সময় আমরা ধান বাজারে বিক্রি করতে পারি না, সময়মতো বাজার করতেও পারি না। এক কথায়— সব দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে আমাদের এলাকার কয়েকটি গ্রাম।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুড়িয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোনারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এমপি ও চেয়ারম্যানকে বারবার বলেও গাছ কাটার বিষয়ে কোনো সমাধান করতে পারেননি গ্রামবাসী। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগের নেতা রফিকের দাপটে আমরা সবাই অসহায়। রাতের আঁধারে কে বা কারা গাছ কাঁটছে আর গ্রামের অসহায় মানুষের নামে সে মামলা দিচ্ছে। শুধু গাছ কাটা নয়, রফিকের বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো বাজে মন্তব্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধেই সে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। আমরা গাছ চাই না, আমরা রাস্তা প্রস্থকরণসহ পাকাকরণ চাই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023