শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

ইরানের হামলা, এখন কোন পথে হাঁটবে ইসরাইল?

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

ইরানি কনস্যুলেটে হামলার পর রোববার ইসরাইল লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে তেহরান। এ হামলার পর দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।
তবে এরই মধ্যে প্রতিশোধের হুশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। পালটাপালটি এ হামলার মধ্যে দেশটির সামনে এখন কোন কোন পথ খোলা রয়েছে, ইরানই–বা পরবর্তী সময়ে কী করতে পারে, তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনার।

সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে হামলার জবাবে ইসরাইল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ৯৯ শতাংশই আকাশে থাকতে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন—এরপর কী হবে? সহজ জবাবটা হলো, মোটাদাগে তা নির্ভর করছে ইরানের হামলার জবাব ইসরাইল কীভাবে দেবে তার ওপর।

শনিবার ওই হামলার পর ইরানের ভাষ্যটা ছিল এমন, হিসাব চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানেই ইতি টানছি আমরা। আপনারা পালটা হামলা চালাবেন না। এর ব্যতিক্রম হলে জবাবে আমরা আরও শক্তিশালী হামলা চালাব। ওই হামলা আপনারা রুখতে পারবেন না।

তবে ইসরাইল এর মধ্যেই ইরানের হামলার ‘উল্লেখযোগ্য জবাব’ দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে। ইসরাইলের বর্তমান সরকারকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকারগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। সংকটময় এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরান ও ইসরাইল—দুই পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ঢুকে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। জবাবে সেদিন থেকেই ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। তাই বিভিন্ন দেশ থেকে যতই সংযত থাকার আহ্বান জানানো হোক না কেন, গতকালের হামলার জবাব ইসরাইলের বর্তমান যুদ্ধকালীন সরকার দেবে না, এমন সম্ভাবনা কম।

তবে ইসরাইল চাইলে প্রতিবেশী দেশগুলোর কথায় কান দিতে পারে এবং সে অনুযায়ী ‘কৌশলগত ধৈর্য’ ধরতে পারে। এর অর্থ ইরানের মতো একইভাবে পালটা হামলা না চালানো এবং এ অঞ্চলে হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাওয়া। এ কাজ বছরের পর বছর ধরে করে আসছে ইসরাইল।
ইসরাইল যদি পাল্টা পদক্ষেপ নিতেই চায়, তাহলে গতকাল যেসব ঘাঁটি থেকে ইরান হামলা চালিয়েছে, সেখানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে তারা। অথবা আরও বড় পরিসরে কিছু করতে চাইলে তারা ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিভিন্ন ঘাঁটি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টারে হামলা করতে পারে। তবে এতে ইরানের পালটা প্রতিশোধ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

এখানে একটা প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্র কী করবে? ইসরাইল–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী কি তেহরানের সঙ্গে পুরোপুরি যুদ্ধে জড়াবে? উপসাগরীয় অঞ্চলে ছয়টি আরব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। মার্কিন সেনারা সিরিয়া, ইরাক ও জর্ডানেও অবস্থান করছেন। যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়লে এসব দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা হতে পারে।

পালটা হামলার শিকার হলে ইরান আরেকটি পদক্ষেপও নিতে পারে। এর হুমকি অবশ্য তারা বহু আগে থেকেই দিয়ে আসছে। সেটি হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করা। এ জন্য তারা মাইন ও ড্রোন ব্যবহার করতে পারে। এতে বাধার মুখে পড়তে পারে বিশ্বের এক–চতুর্থাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন।
আসলে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা ও ইসরাইলের পাল্টা হামলা একটা দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

দুই দেশের এ পদক্ষেপের কারণে আঞ্চলিকভাবে বড় পরিসরে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এমন কোনো পরিস্থিতি এড়াতে এ মুহূর্তে দিনভর কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023