বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের ছোটচাপড় এলাকার কদমতলা নামক স্থানে ডাকাতির ঘটনায় ৩ জন ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতি করার বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি আটক। আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের।
ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নে গত ১০ রাত্রী আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় ১টি মোটর সাইকেলে ৩ জন যাত্রী চিকাশী টু সোনাহাটাগামী কদমতলা নামক স্থানে পৌঁছালে রাস্তার উপর কাটা গাছ ফেলানো দেখেন। তখন তারা মোটরসাইকেল থামাইলে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন দুষ্কৃতিকারীরা তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন তাদেরকে দিয়ে দিতে বলে। এসময় তারা টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকার করায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন দুষ্কৃতিকারীরা বাদী ও তার সঙ্গীদের গাছের ডাল দ্বারা মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারীভাবে আঘাত করে জখম করে।
পরে তাদের নিকট হতে নগদ ১,০২,০০০/- (এক লক্ষ দুই হাজার) টাকা ও ৩টি অ্যান্ডযড়ে মোবাইল ফোন যাহার মূল্য-৫৪,৯৭০/- টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এই সংক্রান্তে বগুড়া ধুনট থানার মামলা নং-৯, তাং-১২/১০/২০২৩ ধারা-৩৯৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বগুড়া ডিবি ও ধুনট থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চলতে থাকে।
এরই একপর্যায়ে গত সোমবার সকাল ১০ টার সময় আসামী খোকনকে বগুড়া সদর থানার চকসূত্রাপুর হতে আটক করে। পরে একই তারিখে সোয়া ১১টার সময় আসামী বিপুলকে বগুড়া সদরের হরিগাড়ী ইসলামপুর গ্রাম থেকে এবং আসামী সিএনজি ড্রাইভার নজরুল ইসলামকে শহরের উপকন্ঠে মাটিডালী সিএনজি স্ট্যান্ড হতে একই তারিখ বিকাল ৫টার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেখানো মতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১ টি হেক্সারেড, ১ টি ধারালো বটি দাঁ, ১ টি বার্মিজ চাকু, প্লাস্টিকের সুতলি দড়ি, ১টি সিএনজি এবং তাদের হেফাজত হতে লুন্ঠিত ৪ টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার সহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলো পালশা নামাপাড়া এলাকার জনৈক লাভলু মিয়ার ভাড়াটিয়া ও গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার দূর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের পুত্র মোঃ খোকন মিয়া (৩৫)।, ইসলামপুর হরিগাড়ী জনৈক খয়বরের বাড়ির ভাড়াটীয়া ও বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার চকদুলাহার গ্রামের ইসমাইল হোসেন এর পুত্র মোজ্জাফর হোসেন ওরফে মোজাহার ওরফে বিপুল (৩৫) এবং বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শিকারপুর পূর্বপাড়া বা (কসাইপাড়া) গ্রামের ফরিদ এর পুত্র নজরুল ইসলাম (৪৩)।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা এবং পলাতক অন্যান্য আসামীগণ সহ পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবৎ উত্তরবঙ্গের বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে পথরোধ করে ডাকাতি, ছিনতাই অপহরণ সহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর তারা পরস্পর যোগসাজসে তাদের পূর্বপরিকল্পনা মতে বগুড়া জেলার ধুনট থানাধীন চিকাশী ইউনিয়নের অন্তর্গত চিকাশী টু সোনাহাটাগামী কদমতলা নামক স্থানে ডাকাতির জন্য অবস্থান করে এবং রাস্তার পাশ হতে একটি বড় গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে রাস্তা বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকে।
ইতিমধ্যে ১ টি মোটরসাইকেলে ০৩ জন আরোহী আসতে দেখে টর্চ লাইট দিয়ে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে রাস্তার নিচে আড়ালে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর আরেকটি মোটসাইকেলে ১ জন আরোহী আসতে থাকলে তাকেও সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে চড় থাপ্পর দিয়ে তার নিকট হতে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তাকেও হাত-পা বেধে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে ৩ জন বাইক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামীরা হাতের টর্চ লাইট দিয়ে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাদের মাথা ও পিঠে মারপিট করে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় একপর্যায়ে মামলার বাদী কৌশলে চিকাশী গ্রামের দিকে দৌড় দিলে আসামীগণ পেছনে ধাওয়া করতে থাকে। বাদীর চিৎকারে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে আসামীদের ধাওয়া করলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত ১ নং আসামী মোঃ খোকন এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন থানায় চুরি ও ডাকাতি সহ সর্বমোট ৮ টি মামলা, ২ নং আসামী মোঃ মোজ্জাফর হোসেন ওরফে মোজাহার ওরফে বিপুল এর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও হত্যা সহ সর্বমোট ৮ টি মামলা এবং ৩ নং আসামী নজরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক সহ সর্বমোট ৪ টি মামলা রয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।