মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে চলন্ত বাসের ধাক্কায় তিন বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। তবে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
বুধবার ভোরে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া সেতুর ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। তার নাম হাসিনা বেগম। তিনি চট্টগ্রামের বদরুদ্দোজা ভূঁইয়ার স্ত্রী। অন্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গুরুতর আহত কয়েকজন হলেন, চট্টগ্রাম জেলার মৃত আব্দুল বাতেন মিয়ার ছেলে লাভলু (৫৫), পটুয়াখালীর মৃত আজহার উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (৪৬), মৃত আবু সাত্তার জমাদ্দারের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪৮), বদু ফকির মিয়ার ছেলে মফিজুল ইসলামসহ (৪২) সহ অন্তত ১২ জন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত বদরুদ্দোজা ভূঁইয়া বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার পরপর আমাদের বাসের চালক বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিলেন। রাতের শেষ ভাগের ঘটনা। বাসের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। আমার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও আমি বাসের বাম পাশে বসে ছিলাম। হাসিনা জানালার পাশে ছিল। মুহূর্তেই চোখের সামনে আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন মারা যান।
হাসারা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার সিংহ জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মালবাহী একটি ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়া মোড়া সেতুতে এলে চাকা নষ্ট হয়ে যায়। ট্রাকটি সেতুর একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। অন্যদিকে, লাবিবা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি কুয়াকাটা থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। পথে উপজেলার রামেরখোলায় বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল ওই ট্রাকের পেছনে বাসটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আহত হন কমপক্ষে ১২ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ও ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর বাস ও ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। চালকেরা পলাতক। তিনজনের লাশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।