তামিমের ফিরে আসার নেপথ্যের নায়ক কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

আচমকা গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তামিম ইকবাল। তারকা এই ওপেনারের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক সবাই। এরপর তামিমকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তামিম। তামিমকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি। বিদায় বেলায় কান্নায় ভেঙে পড়া তামিম বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচটিই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছি। সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া নয়। অনেকদিন ধরেই আমি এটা নিয়ে ভাবছি। পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছি এটা নিয়ে।’

এই তারকার অবসর ইস্যু নিয়ে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই ইস্যু নিয়ে সেদিনই রাত ১০টায় রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে সভা ডাকে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ওয়ানডে অধিনায়ককে ফেরানোর চেষ্টা করবেন তারা। তবে তামিমকে যে কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ত্রাণকর্তা মাশরাফি হিসেবে হাজির হন।

তামিমের অবসর ঘোষণার পর তার সঙ্গে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তবে জানা যায়, বোর্ডের মাধ্যমে তাকে পাওয়া না গেলে শেষমেশ মাশরাফির মাধ্যমে তামিমকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সকালেই চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকা আসেন তামিম ইকবাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে গণভবনে দেখা করতে যান তিনি। অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতেই তাকে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন বলে জানা গেছে। তামিমের সঙ্গে গণভবনে যান বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাজমুল হাসান পাপন। এ ছাড়া তামিমের স্ত্রী আয়েশা ইকবালও ছিলেন সঙ্গে।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তামিম। তবে অবসর থেকে ফিরলেও চলমান আফগানিস্তান সিরিজের বাকি ২ ম্যাচে খেলবেন না তামিম। আপাতত দেড় মাসের বিশ্রামে থাকবেন তিনি। এশিয়া কাপ দিয়ে আবারও দলে ফিরবেন তিনি।

পরে সংবাদমাধ্যমে মাশরাফি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছিলেন। তামিম তো সবকিছু থেকে দূরে ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাই আমাকে বলেছেন ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে। আমি তাকে বলেছি যে, তামিমকে আমি নিয়ে আসছি আপনার কাছে। এরপর তামিমকে আমি বলেছি যে, তুই গিয়ে মনের কথা বল। প্রধানমন্ত্রীর যে কথা আছে, সেটা তিনি বলবেন। তারপর যে সিদ্ধান্ত হওয়ার হবে। আমার দায়িত্ব ছিল ওকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর চেয়ে ভালো সমাধান আমি আশা করিনি। তামিম বিরতি চেয়েছে, সেটা নিক। পুরো ফিট হয়ে, মানসিকভাবে তরতাজা হয়ে ফিরুক। কিন্তু এভাবে অবসরের মানে নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক কিছুই হয়। কোচের সঙ্গে ঝামেলা হতে পারে, বোর্ডের সঙ্গে হতে পারে। আমার ২০ বছরের ক্যারিয়ার আর অধিনায়কত্বের ৫-৬ বছরে তো কম হয়নি এসব। সব দলেই কম-বেশি এসব হয়। এসব সামলেই চলতে হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023