পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। প্রতি বছর ঈদের সময় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি দেখা গেলেও এ বছর তেমনটি নেই। মূলত বঙ্গবন্ধু সেতুর হয়ে গোল চত্বর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার পথের বেশিরভাগ অংশই চার লেন করা হয়েছে। এছাড়া যানজট নিরসনের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী গাড়ির চাপ স্বাভাবিক থাকলেও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী গাড়ির পরিমাণ ছিল খুবই কম। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের কোথাও যানজট না থাকায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারছে। এদিকে মহাসড়কে পশুবাহী গাড়িরও অনেকটা কম লক্ষ্য করে গেছে।
ঢাকা থেকে রাফি সিকদার বলেন, ‘গাবতলী থেকে বাসে ওঠার সাড়ে তিন ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ এসে পৌঁছালাম। রাস্তায় তেমন কোনো যানজট নেই।’ ঢাকা থেকে আসা বাসচালক মতিউর হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়নি, যানজটও নেই। ঢাকা থেকে ফেরা গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার শেখ বলেন, ‘মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপদে আমরা আসতে পারছি।’
এদিকে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ের ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়া হলেও আজ সকাল থেকে তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন যানজট নিরসনের জন্য তড়িঘড়ি করে ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু আজ যানবাহনের চাপ কম, তাই ফ্লাইওভারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গাড়ির চাপ বাড়লে আবারও তা খুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, ‘ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের যানবাহনে অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। এবার যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতেই মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোডে ও হাটিকুমরুল গোল চত্বর এলাকায় মাইকিং করে গাড়িগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। যানজট নিরসনে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করে যাচ্ছে।’