মধ্য প্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ফার্নিচারের কারখানার ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আমিরাতের শারজাহ শহরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ফার্নিচার দোকানের ব্যবসায়ী মো. ইউছুফ (৪৩), দোকান কর্মচারী মো. রাসেল (৩২) ও বেড়াতে আসা তারেক হোসেন (৩৮)। তাদের মধ্যে ইউছেুফ ও তারেকের বাড়ি সেনবাগের পলতি গ্রামে। রাসেলের বাড়ি উপজেলার মতৈন গ্রামে।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তিনজনের পরিবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানতে পারে। এরপর বেলা ১১টার দিকে নিহত ইউছুফের ছোট ভাই ইমরান হোসেন আবুধাবি থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর পান। এরপর তিন পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ব্যবসায়ী মো. ইউছুফ ২৫ বছর ধরে আমিরাতে ছিলেন। দুই বছর আগে তিনি শারজাহ এলাকায় ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে ভেতরে তিনিসহ দোকান কর্মচারী রাসেল ও বেড়াতে আসা মো. তারেক হোসেন ঘুমিয়ে পড়েন। স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে দোকানে ধরা আগুনে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
আমিরাতে বসবাসরত ইউছুফের স্বজন আবুল বাশার ও আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানান।
এ ব্যাপারে সেনবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘তিন প্রবাসী নিহত হওয়ার খবর আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছি। আমিরাতে অবস্থানরত নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তবে নিহতের বিষয়ে তাদের স্বজনেরা থানায় কিছু জানাননি।’