তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সিরিয়া সীমান্তের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এতে সিরিয়া ও তুরস্কে অন্তত ৬৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ভূমিকম্পে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তুরস্কের মালত্য শহরে বাস করা ওজগুল কনাকচি। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমি ও আমার ভাই ঘুমাচ্ছিলাম। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলি, ‘তুমি কি কাঁপছ? আমি ল্যাম্পের (বাতি) দিকে তাকালাম। মনে হচ্ছিল ল্যাম্পটি ভেঙে যাচ্ছে। আমরা আমাদের তিন বছর বয়সী ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে পড়ি।’
ওজগুল বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে আফটার শকে একটি ভবনের জানালাগুলো ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের পাঁচটি ভবন ধসে পড়ে। সব লোক রাস্তায় নেমে আসে। অনেকে ভবনে আটকা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা ভবন থেকে একের পর লাশ বের করে আনতে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবন ধসে অনেকে চাপা পড়েছে। নিখোঁজদের হন্য হয়ে খোঁজ করতে দেখা গেছে পরিবারের সদস্যদের।’
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমন সইলু বলেন, ‘ভূম্পিকম্পে ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- গাজিয়ানতেপ, কাহরামানমারাস, হাতায়, ওসমানিয়ে, আদিয়ামান, মালাতিয়া, সানলিউরফা, আদানা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস। প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া, লেবানন এবং সাইপ্রাসেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।’
তুর্কি কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন পর্যন্ত তারা ২ হাজারের বেশি আহতের খবর পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে তুরস্কের কোথাও কোথাও তুষারপাত আর বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।