দুপচাঁচিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামছুন্নাহারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্য চিকিৎসকরা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈদ মো: আব্দুল্লাহ্-আল-হানিফ, সহকারী সার্জন ডা. এ এইচ এম তনয় মোস্তাফিজসহ ১৯ জন চিকিৎসক সম্প্রতি ঢাকা মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের নিকট এই অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শামছুন্নাহার ইতিপূর্বে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে অসৎ আচরণের কারণে তাকে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ২০ শয্যা বিশিষ্ট আলীয়ার হাট স্বাস্থ্য কেন্দ্র আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসাবে বদলি করা হয়।
বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে তিনি গত ২০ ফেব্রুয়ারী দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর তার পূর্বের আচরণের কোন পরিবর্তন হয়নাই। তার ইচ্ছামতো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ পরিবর্তণ করে জুনিয়রদের দায়িত্ব প্রদানসহ কর্মচারীদের সাথে অত্যন্ত অসৎ আচরণ এবং বদলীর হুমকি প্রদান করে আসছেন। কোভিড-১৯ কাজে নিয়োজিত জুলাই ২১ থেকে জানুয়ারী ২২ পর্যন্ত ১৫ জন ভলেন্টিয়ারের সাত মাসের প্রতিজন ৫৮৮০০/- টাকা বরাদ্দ থাকলেও ১৩ জনকে মোট ১৬৭০০০/- টাকা প্রদান করেন। বাঁকি টাকা আত্মসাত করেছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের ২০২২ এর জুনের পূর্বে প্রতিটি ক্লিনিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্টেশনারী ওষুধ পরিবহন বাবদ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। বাঁকি টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিল ভাউচার ক্যাশবুক কম্পিউটার অন্যান্য কাগজপত্র নিজ বাসভবনে সংরক্ষণ করে এবং বাসা থেকে অফিস পরিচালনা করেন। গত ৩১ মে ক্যাশিয়ার মিজানুর রহমানের নিকট থেকে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের সকল মুল ক্যাশবই ও বিল রেজিস্ট্রার জোরপূর্বক তার বাসায় নিয়ে গিয়ে স্বামীর সাহায্যে অদ্যবধি অফিসের কার্যক্রম পরিচলনা করছেন। মাঠ কার্যক্রম ও কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন না করেই ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করেন। সরকারি গাড়ি তার স্বামী ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবহার করে যার জ্বালানি বিল সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে থাকেন। সরকারি বাসভবনে স্বামী সন্তানসহ বসবাস করলেও ডরমেটরি হিসাবে বাসা ভাড়া কর্তন করেন এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা থেকে বিরত রয়েছেন। কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন বিল ভাইচার থেকে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং ভ্যাট আইটির দোহায় দিয়ে শতকরা ২৫ ভাগ টাকা কর্তন করে তা আত্মসাত করেছেন। ইউএনএফপির তহবিল থেকে এপ্রিল থেকে জুন ২০২২ প্রাপ্ত অর্থ ভুয়া ভাউচারে আত্মসাত করেছেন।
বিভিন্ন জাতীয় দিবস পুষ্টি, তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বর্প দংশন, যক্ষা নিয়ন্ত্রণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য, মাতৃ দুগ্ধ, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য দিবসের সরকারি বরাদ্দ টাকা খরচ না করে শুধু দিবসের ব্যানার ফটোসেশন করে বিলবোর্ড লাগিয়ে সব টাকা আত্মসাত করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর থানা সত্বেও বিদ্যুৎ চলে গেলে তা সচল না করায় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সময় অপারেশন থিয়েটারের সেবার কাজও বিঘœ ঘটে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ বায়োমেট্রিক হাজিরা দেওয়ার পরেও অনুপস্থিত দেখানো সহ বিভিন্ন আচরণে সিভিল সার্জন গত ২ অক্টোবর তাকে কৈফিয়ত তলব করেছেন। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শামছুন্নাহারের সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা করতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নাই।
অফিস সহকারী দিলিপ কুমার জানান তিনি দুই দিনের ছুটিতে আছেন। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দুর্নীতি অনিয়ম স্বেচ্ছাচারীতা নিয়ে ডাক্তারদের বিরোধের জের ধরে কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন