বগুড়া জজশীপের সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তার ওকালতি সনদপত্র কেন বাতিল করা হবে না, তা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফজাল-উর-রহমানের সই করা নোটিশে এ তথ্য জানা গেছে। রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জামিন না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নরেশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে অসদাচারণ করেন। তার আদালত বর্জন করা হয়। আদালতে স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলার বাদীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এসব ব্যাপারে সিনিয়র জেলা জজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ (মিস কেস-৩৬/২০২১) করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আফজাল-উর-রহমান সম্প্রতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুকে শোকজ করেন।
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, নরেশ চন্দ্র সরকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন রেজাউল করিমের ওকালতি সনদ বাতিল করা হবে না, তা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই নোটিশের কপি বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদকেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেন, ‘সাবেক জেলা জজ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তা ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই অন্য আইনজীবীদের ইন্ধনে এমন কাজ করা হয়েছে। শিগগিরই এই নোটিশের উপযুক্ত জবাব দেবো।’
অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ জানান, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু নোটিশের জবাব দিলে ঢাকায় ট্রাইব্যুনালে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায় তার (মন্টু) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন জানান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের সাথে অসদাচারণের অভিযোগ ওঠে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি। এরপর বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুকে শোকজ করেছে।